default-image

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামের ১১৩ বছর বয়সের বৃদ্ধ আফসার বিশ্বাস। বাড়িতেই বসে ছিলেন। তাঁর বাড়িতে পুলিশসহ হাজির একদল মানুষ। পুলিশের হাতে ফুল, ফল ও ক্রেস্ট। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এসব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ফুল, ফল ও ক্রেস্ট পেয়ে আফসার বিশ্বাস আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পুলিশের কাছ থেকে ফুল, ফল ও ক্রেস্ট পাব, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। আমি স্বচক্ষে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। আমি অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এ ঘটনা আমার আমৃত্যু মনে থাকবে।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বালিয়াকান্দি থানার উদ্যোগে শতবর্ষীদের সম্মাননা জানানো হয়। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শতবর্ষী ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুজ্জামান, পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন কুমার আদিত্য, নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল হাসান আলী, নারুয়া বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আফসার বিশ্বাস ছাড়াও মধুপুর গ্রামের জন জোয়াদ্দার (১২০), নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক (১০২), বহরপুর ইউপির ইলিশকোল গ্রামের কালীপদ সোম (১০২), কুবদী গ্রামের ছকিনা বেগমের (১০৮) বাড়িতে গিয়ে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ফুল, ফল ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শতবর্ষী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বলেন, ‘আমি একজন পুলিশ সদস্য। আজ নিজের গর্ব হচ্ছে। জীবনের শেষ সময়ে থানার ওসি স্যারের কাছ থেকে এই উপহার সত্যিই অপ্রত্যাশিত। এটা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওসি স্যারসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

সমাজকর্মী শেখ মহিদুল ইসলাম বলেন, থানার ওসিরা কখনো এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা নেই। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এ ঘটনা উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এ ব্যাপারে ওসি মো. তারিকুজ্জামান বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধুর জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। শতবর্ষী এসব ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে দেখেছেন। তাঁদের চোখ দিয়ে আমরাও বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে ফিরতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি। কুশলাদি বিনিময় করেছি। শতবর্ষী এসব ব্যক্তির খোঁজখবর নেওয়া অব্যাহত থাকবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন