বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী জানান, গত মঙ্গলবার রাতে লোহাগাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক অতুল প্রসাদ সিংহের বাড়িতে চুরি হয়। দুর্বৃত্তরা খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির লোকজনকে অচেতন করে মুঠোফোন, টাকাপয়সা চুরি করে নিয়ে গেছে। বুধবার রাতে সৌলাপুকুর গ্রামের গয়া প্রসাদের বাড়িতে একইভাবে পাঁচজনকে অচেতন করে সাত ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। একই রাতে পানিশাল গ্রামের নাজমুল হকের বাড়ির চারজনকে অচেতন করে ছয় ভরি স্বর্ণ ও তিন লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরপর দুই রাতে তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক এলাকার লোকজন চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন।

গত শনিবার রাতে গিয়ে দেখা যায়, সৌলাপুকুর, পানিশাল ও লোহাগাড়া এলাকার লোকজন বাড়ির আশপাশে পাহারা বসিয়েছেন। সৌলাপুকুর গ্রামের যুবক কৃষ্ণ রাম বলেন, একের পর এক বাড়ির লোকজনকে অচেতন করে চুরি হচ্ছে। এটা বন্ধ করতেই শুক্রবার রাত থেকে প্রতিটি গ্রামের ১৫ থেকে ২০ জন করে যুবক কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পাহারা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক বলেন, প্রায় প্রতিটি ঘটনায়ই ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় ছুটে যান, অভিযোগ করেন। কিন্তু কোথাও চোর ধরার খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

আবদুর রশিদ নামের বালিয়াডাঙ্গী এলাকার এক যুবক জানান, ‘পাড়িয়া ইউনিয়নে তিনটি চুরির ঘটনা ছাড়াও গত মঙ্গলবার সমিরউদ্দিন স্মৃতি কলেজের বিপরীতে স্কুলশিক্ষক আসাদ আলীর বাড়ি থেকে দিনদুপুরে চোরেরা চার ভরি স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায়। পরের দিন দুওসুও ইউনিয়নের হাসান মেম্বারপাড়া এলাকার রাজু হোসেন ও তাঁর চাচার বাড়ির লোকজনকে অচেতন করে তিন লাখ টাকা চুরি হয়। এসব চুরির ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আসলাম বলেন, ‘উপজেলায় লোকজনকে অচেতন করে চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এটা এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আজ রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে চুরি বাড়ার বিষয়ে পাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, আগে দুই–তিন মাস পরপর পুরো এলাকায় দু–একটি চুরির ঘটনা শোনা যেত। গত মার্চে বালিয়াডাঙ্গীর দুটি বাড়িতে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। আর গত মাস থেকে দু–এক দিন পরপর চুরি হচ্ছে। চলতি মাসেই পাড়িয়া-লাহিড়ী এলাকাতেই এমন ৮ থেকে ১০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির ফলে ব্যবসায়িক কারণে যাঁদের বাড়িতে টাকাপয়সা গচ্ছিত রাখতে হয়, তাঁরা ভাবনায় পড়েছেন।


বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল হক প্রধান বলেন, ‘পাড়িয়া এলাকায় পাশাপাশি তিনটি গ্রামের বাড়িতে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির লোকজনকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। চুরির ঘটনায় নাজমুল হক নামের এক ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। গতকাল শনিবার আমরা সেই এলাকায় তদন্তে গিয়েছিলাম। স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের যোগসাজশেই এসব চুরি হচ্ছে বলে মনে হয়েছে। চোরদের ধরতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন