বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘দিন দিন শুকি তিস্তা মরি যাবার নাগছিল। সেদিন যে (২০ অক্টোবর) কী হইল। আধা ঘণ্টাতে তিস্তা উচলি গেছিলো। মোর তিন একর জমির ধান অ্যালা বালুর তলোত পড়ছে। দেড় একর জমির কুমড়াখেত শ্যাষ। গতবার ধানের কাড়ি বেচে অনেক টাকা লাভ করছু। এবার ধানও গেল, কাড়িও গেল।’

শুধু মোফাজ্জল নয়, তিস্তার বিভিন্ন চরের শত শত কৃষকের হাজার একরের সোনালি ফসল নষ্ট হয়েছে এক দিনের হঠাৎ সৃষ্ট বন্যায়। গত ২০ অক্টোবর গজলডোবার সব দরজা খুলে দেওয়ায় ওই দিন তিস্তা ফুলেফেঁপে উঠেছিল। ২২ অক্টোবর কমে গেছে বন্যার পানি, ভেসে উঠেছে চর। চরজুড়ে কৃষকেরা এখন হাহাকার করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ সৃষ্ট বন্যায় গঙ্গাচড়ার ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমির আমন ধান, ৩০ হেক্টর জমির বাদাম, ১০ হেক্টর জমির আলু এবং ২৫ হেক্টর জমির কুমড়া খেত নষ্ট হয়ে গেছে।

কাঠফাটা রোদে পাঁচজন কৃষক নিয়ে বানে পচে যাওয়া আমন খেতের খড় সরাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম (৩৫)। মাথার গামছা খুলে মুখের ঘাম মুছে শহিদুল বলতে থাকেন, ‘বানোত সউগ শ্যাষ হয়া গেইছে। আবাদ না করলে তো না খায়া মরির নাগবে। ওই জন্য জমিটা পরিষ্কার করোছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তাঁদের প্রণোদনা দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন