পঞ্চগড়ের নদ-নদীগুলোর ঝকঝকে, মোটা ও লালচে বালুর চাহিদা আছে সারা দেশে। নানা উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পঞ্চগড়ের বালু।

একসময় জেলার সমতল ভূমি খনন করে তোলা হতো পাথর। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল কয়েক হাজার শ্রমিকের। ধীরে ধীরে এই পাথর উত্তোলনে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের ব্যবহার শুরু হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২০২০ সালের শুরুর দিকে সমতল ভূমি ও নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে জেলা প্রশাসন। সেই শ্রমিকেরাও পরে নদীর বালু উত্তোলনে যুক্ত হতে শুরু করেন।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর ১৫টি বালুমহাল থেকে বৈধভাবে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হয়। প্রত্যেক বৈশাখ মাসে প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে এসব বালুমহাল এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। চলতি বছরে এসব বালুমহাল থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার ৬৮০ টাকা।

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন বালুমহাল ঘুরে দেখা যায়, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে সদর উপজেলা হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীসহ জেলার অন্যান্য নদীর বালুমহালগুলোতে প্রতিদিন সকাল হলেই শুরু হয় বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ। সকাল হলেই নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন শ্রমিকেরা। সারা দিন পানিতে নেমে চলে বালু উত্তোলন। তাঁদের উত্তোলিত এসব বালু জমানো হয় নদীর ধারে। সেখান থেকে ট্রাক্টরে করে আনা এসব বালু জমানো হয় মহাসড়কের পাশের বালু পয়েন্টগুলোতে। সেখান থেকেই প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে এসব বালু ব্যবসায়ীরা পাঠান দেশের বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাকে এসব বালু ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনাসহ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। এমনকি এসব বালু নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পাঠানো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

একেকটি বড় ট্রাকে (১০ চাকা) ৮০০ থেকে ৮৫০ ঘনফুট পর্যন্ত বালু পরিবহন করা হয়। প্রতি ট্রাক বালুর দাম পড়ে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। একেকটি ট্রাকে গন্তব্যভেদে ভাড়া লাগে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পঞ্চগড় কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মোটা ও ঝকঝকে হওয়ায় পঞ্চগড়ের বালুর চাহিদা সারা দেশেই তুলনামূলক বেশি। আমরা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুকে এফএম (ফাইননেস মডিউলস) হিসেবে দেখি। পঞ্চগড়ে এফএম ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ পর্যন্ত মডেলের বালু পাওয়া যায়, যা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে নির্মাণ করা যায়। বিশেষ করে বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে এই ধরনের বালুর খুবই প্রয়োজন। পঞ্চগড়ের বালুতে মিশ্রণ নেই। সে জন্যই পঞ্চগড়ের বালুর এত কদর।’

শ্রমিকেরা জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বালু ব্যবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। নৌকায় করে বালু তোলা শ্রমিকেরা প্রতি ট্রাক্টর বালুতে পান ৩৫০ টাকা। বালুশ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করছেন। আর বালু ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আবার শুষ্ক মৌসুমে বালু মজুত করে বর্ষা মৌসুমে বেশি দামে বিক্রি করেও বেশি লাভের মুখ দেখছেন। তবে অবৈধভাবে বালু তুললে তাঁরা জরিমানা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন