বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্র জানায়, টাঙ্গন নদের ওপর সেতু নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ কাজে মাটি ভরাটের জন্য ব্যয় ধরা রয়েছে আট লাখ টাকা। কাজটির মূল ঠিকাদার ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স হলেও স্থানীয়ভাবে করছেন পার্থ সারথি সেন।

২০১০ সালের বালুমহাল আইনের ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়, ‘বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা–বাগান ছাড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি তোলা যাবে না। এর (খ) উপধারায় বলা আছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বর্পূণ সরকারি–বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে র্সবনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইনে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত বিধান অমান্য করলে বা এই আইন বা অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করে অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তি বা তাঁদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা অনূর্ধ্ব ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা থেকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা র্পযন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

গতকাল সকালে টাঙ্গন নদের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদের তীর সংরক্ষণ বাঁধের ১০ মিটারের মধ্যে খননযন্ত্র বসিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে সেই বালু ফেলা হচ্ছে। বালু তোলার কাজে ব্যস্ত রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়ি নীলফামারী ডিমলা থেকে এসেছেন। সেতুর ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে চুক্তি করে গত বছরের ২৬ জুন থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে গর্ত করে বালু তুলছেন তাঁরা। কাজ শেষ হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন লাগবে।

পৌর এলাকার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন বলেন, ঠিকাদার মাটি ভরাটের খরচ সাশ্রয় করতে নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে প্রকল্প এলাকা ভরাট করছেন। খয়রুল ইসলাম নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা করছে প্রশাসন। আর এখানে অবাধে বালু তোলা হলেও তা বন্ধে কারও পদক্ষেপ দেখা যায় না।

এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহারুল আলম মণ্ডল জানান, নদের বালু তুলে প্রকল্পে ব্যবহারের বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

ঠিকাদার পার্থ সারথি সেন মুঠোফোনে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অনুমতি নিয়ে নদ থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

তবে পাউবো ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলছেন, নদ থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁদের নেই। জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, টাঙ্গন নদে যন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলনে কোনো ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন