বালু তোলায় ঝুঁকিতে সেতু

ভোগাই নদের ৪টি মৌজায় বালু তুলতে ৯০ লাখ টাকায় ইজারা পায় ‘মা-একটি প্রতিষ্ঠান। গত ২৩ নভেম্বর বালু তোলার পরিধি আরও বাড়ানো হয়।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর চারআলী সেতুর কাছ থেকে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার কালাকুমা গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভোগাই নদ থেকে রাত-দিন বালু উত্তোলন চলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে দেদার বালু উত্তোলনে নদের ওপরের চারআলী সেতু ঝুঁকিতে পড়ছে। এ ছাড়া নদ রক্ষা বাঁধ ভেঙে বালু তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে নয়াবিলের সঙ্গে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কে ভোগাই নদের ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের চারআলী সেতু নির্মাণ করা হয়। গত বৈশাখ মাসে ভোগাই নদের ৪টি মৌজায় বালু তুলতে ৯০ লাখ টাকায় ইজারা পায় ‘মা-এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গত ২৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বালু তোলার পরিধি আরও বাড়ানো হয়। তবে চারআলী সেতুর ৫০০ মিটার ভাটি ও উজান থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

সেতুর কাছ থেকে বালু তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইতিমধ্যে এক বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
হেলেনা পারভীন, ইউএনও, নালিতাবাড়ী, শেরপুর

এ নিষেধাজ্ঞা রয়্যালটির মাধ্যমে ‘মা-এন্টারপ্রাইজ’ থেকে বালু কেনা ব্যবসায়ীরা মানছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তন্তর গ্রামের মো. জাকারিয়া, কালাকুমা গ্রামের আজিজুল হক ও তাঁর বোনজামাই সালাম মিয়া, ছোট ভাই বাবুল মিয়া ৪টি মেশিন দিয়ে সেতুর ২০০ মিটারের মধ্য থেকে বালু তুলছেন।

এ ছাড়া সাত-আটটি শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে কালাকুমা ও হাতিপাগার এলাকায় নদ রক্ষা বাঁধ ভেঙে বালু তোলা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল এলে বাঁধ গড়িয়ে বন্যা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাঁরা চারআলী সেতু ও নদের বাঁধ রক্ষায় দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর ২০০ মিটার দূরত্বের কালাকুমা এলাকায় ৪টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে নদ থেকে লম্বা পাইপের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া সেতুর ৪০০ মিটার ভাটিতে কালাকুমা ও হাতিপাগার নদ রক্ষা বাঁধ ভেঙে ৭-৮টি মেশিনে দীর্ঘ পাইপ বসিয়ে সুউচ্চ বালুর টিবি করা হচ্ছে। এতে ৩০-৩৫ জন শ্রমিক বালু তোলার কাজ করছিলেন। এ সময় বিকট শব্দে ঠিকমতো কোনো কথাই বোঝা যাচ্ছিল না।

সেতু ও বাঁধ ঝুঁকিতে ফেলে এভাবে বালু তোলায় কয়েকজন বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সেতুর কাছ থেকে বালু তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইতিমধ্যে এক বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। তারপরও যদি কেউ সেতুর কাছ থেকে বা বাঁধ ভেঙে অবৈধভাবে বালু তুলে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও বালু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মালিকদের খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নাম প্রকাশ না করে এক শ্রমিক বলেন, ‘বালু ব্যবসায়ীদের কথামতো বালু তোলা হয়। এতে আমরা দিনের হিসাব অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাই। এ বালু বিক্রির সময় ১০ চাকার ট্রাকের জন্য ২ হাজার ৫০০ ও ৬ চাকার ট্রাকের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা ইজারাদারকে রয়্যালটি দিতে হয়।’

মা-এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জোবায়ের আহমেদ বলেন, প্রশাসনের নির্ধারিত জায়গা থেকে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করে থাকেন। পরে বালু বিক্রির সময় তাঁদের লোকজন বালুর ওপর রয়্যালটি আদায় করে থাকেন। সেতুর নিচ থেকে বালু তুলতে কয়েকজনকে নিষেধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নয়াবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, বালু ব্যবসায়ীরা কারও কোনো কথা শুনছেন না। তাঁরা নদ ও সেতুর ক্ষতি করে বালু তুলে যাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।