পাউবোর আওতাধীন এফসিডিআই প্রকল্পের (চতুর্থ পর্যায়) মাধ্যমে ২০১৫ সালে ওই তিনটি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় এক মৎস্য সমবায় সমিতিকে। বর্তমানে সেখানে মাছ চাষ করেন ওই এলাকার গোপাল বিশ্বাস ও মানবেন্দ্র রায়। তাঁরা দুজন বলেন, জুন মাসের শুরুর দিকে ওই এলাকার চেয়ারম্যান আসলাম হালদার তাঁদের ডেকে পুকুরটি ভরাট করা হবে বলে জানান। এ জন্য পুকুরে থাকা মাছ কয়েক দিনের মধ্যে ধরে নেওয়ার কথা বলেন। তার দুই-এক দিনের মধ্যেই পাশের নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলার জন্য পাইপ লাগানো হয়। এ ব্যাপারে তাঁরা ৭ জুন পাউবোর কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ১২ জুন উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর কাছে আবারও লিখিত আবেদন করেন। তত দিনে ওই পুকুরে বালু ফেলা শুরু হয়। বর্তমানে ওই প্রকল্প চলমান না থাকায় তাঁরা মাছ চাষ করছিলেন বলে জানান।

* এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাশেই থাকা নাজু ও ইকো ব্রিকসের মালিক মামুন আল হাসান পুকুরটি ভরাট করছেন। * ওই কাজে সহযোগিতা করছেন গঙ্গারামপুর ইউপির চেয়ারম্যান আসলাম হালদার।

বটিয়াঘাটা-দাকোপ সড়কের খেজুরতলা এলাকার পূর্ব পাশেই ইকো ব্রিকস নামের ইটভাটা। ভাটার পাশে সড়কের পাশ দিয়ে পাশাপাশি বেশ বড় আকারের লম্বা তিনটি পুকুর। ১৪ জুন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার কাজ বন্ধ। তবে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ইট ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদীর পাশ থেকে একটি মোটা পাইপ ইটভাটার মাঝ বরাবর গিয়ে পুকুর পর্যন্ত গেছে। ওই পাইপ দিয়েই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলা হচ্ছে পুকুরে। পুকুরের মধ্যে বালু পড়ে জায়গাটি উঁচু হয়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটায় দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা বলেন, বালু ফেলার কাজ করছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। তাঁরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

এ বিষয়ে কথা বলার পরদিন ১৫ জুন সকালে বালু ফেলার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর ওই খালের দক্ষিণ পাশে পাইপ লাগিয়ে বালু ফেলা হয়। এখনো মাঝেমধ্যে বালু ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর ইউপির চেয়ারম্যান আসলাম হালদার বলেন, ইটভাটার মালিক পুকুর ভরাটের কাজ করাচ্ছেন। তাঁর ভাই ওই বালু ফেলার ঠিকাদারি নিয়েছেন। ভাইয়ের কাজ হিসেবে তিনিও মাঝেমধ্যে ব্যাপারটি তদারকি করছেন।

ইকো ব্রিকসের মালিক মামুন আল হাসান বলেন, প্রতিবছর ইট পোড়ানোর মৌসুমে ওই পুকুরগুলোতে নদী থেকে লোনাপানি তোলা হয়। পাশেই ভাটা থাকায় চুল্লির মধ্যে পুকুরের পানি ভরে যায়। যেখানে ১ লাখ ইট পোড়াতে খরচ হয় ১৪ টন কয়লা, সেখানে ওই পুকুরের পানির কারণে খরচ হয় ৩০-৩৫ টন কয়লা। আগে কয়লার দাম ছিল ৯ হাজার টাকা প্রতি টন। আর এখন দাম হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ওই পুকুরের জন্যই প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তাই বালু ফেলে নদী থেকে পানি তোলার মুখটি ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে।

বটিয়াঘাটা এলাকা পড়েছে পাউবো পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খুলনা বিভাগ-২–এর আওতায়। ওই বিভাগে কোনো নির্বাহী প্রকৌশলী নেই। সেখানকার দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণপদ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সেখানে কিছু হচ্ছে না। যাঁরা মাছ চাষ করতেন, প্রকল্প বাতিল হওয়ার কারণে তাঁদের সমস্যা হওয়ায় অহেতুক অভিযোগ করছেন।’

স্বচক্ষে বালু ফেলতে দেখার কথা জানালে কৃষ্ণপদ দাশ বলেন, যদি কেউ এমন কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন