বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেনুইন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৯ অক্টোবর ফেরিটি উদ্ধারে প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে জেনুইনের ডুবুরি দল। ১ নভেম্বর ফেরিটি উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটির একটি উইন্স বার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কাত হয়ে ডুবে যাওয়া ফেরিটির নিচের অংশ নদীর তলদেশের প্রায় ছয় ফুট গভীরে ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ডুবুরি দলের কর্মীরা যন্ত্রের মাধ্যমে ফেরির তলদেশের নিচ দিয়ে মোটা তারের মাধ্যমে বেঁধে ফেলেন। আজ সোমবার দুপুরে উইন্স বার্জের মাধ্যমে কাত হয়ে থাকা ফেরিটি অনেকটা সোজা করা হয়। পরে তারের মাধ্যমে বার্জ দিয়ে ফেরির সামনের অংশ ওঠানো হয়। এরপর ফেরির হ্যাজে লোহার পাত ছিদ্র করে ভেতরে শক্তিশালী পাম্প মেশিনের পাইপ প্রবেশ করা হয়। পাম্প মেশিন দিয়ে পাইপের মাধ্যমে উঁচু করা অংশের হ্যাজ থেকে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। ফেরিটিতে ১০টি বাল্কহেড রয়েছে।

জেনুইন এন্টারপ্রাইজের ডিবি মেরিন স্যালভেজ-১, ডিবি মেরিন স্যালভেজ-২, ডিবি মোহনা-১, ডিবি মোহাম্মদ-১, ডিবি মোহাম্মদ-২ নামের পাঁচটি উইন্স বার্জ দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান জেনুইন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক অজয় দেবনাথ বলেন, বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ফেরিটির চারটি হ্যাজ থেকে পানি অপসারণ করা হয়। এর পাশাপাশি ফেরির ছিদ্র হওয়া প্রায় ২৫টি অংশে রাবার ও লোহার পাত দিয়ে মেরামত করা হয়।

দুপুরে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ফেরি উদ্ধারকাজ একটি কঠিন প্রক্রিয়া। বিভিন্ন কারিগরি কৌশল এবং যন্ত্রের মাধ্যমে ফেরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ইতিমধ্যে ফেরি উদ্ধারের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) মো. ফজলুল রহমান বলেন, বাল্কহেড বা হ্যাজ থেকে সম্পূর্ণ পানি অপসারণ এবং এর পাশাপাশি ফুটো বা ছিদ্র বন্ধ করার পর ফেরিটি উদ্ধার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এখন পানি অপসারণের পাশাপাশি ছিদ্র বন্ধের কাজ চলছে।

জেনুইন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের কর্মকর্তা অজয় দেবনাথ বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এরপর ফেরিটি স্বাভাবিক অবস্থায় ভাসছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৭ অক্টোবর সকাল নয়টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাট থেকে ১৭টি পণ্যবাহী যানবাহনসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে আমানত শাহ ফেরিটি ছেড়ে আসে। মাঝপথে আসার পরপরই ফেরির পেছনের বাঁ দিক থেকে পানি উঠতে থাকে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের পন্টুনে ভেড়ামাত্রই ফেরিতে তিনটি পণ্যবাহী যানবাহন দ্রুত ফেরি থেকে নেমে যায়। এ সময় আরেকটি পণ্যবাহী গাড়ি ফেরি থেকে নামার সময় ফেরিটির এক পাশ কাত হয়ে যায়। এ সময় ওই গাড়ি নদীতে পড়ে যায়। এর পরপরই অন্যান্য যানবাহন নিয়ে পন্টুনের কাছে পদ্মা নদীতে ফেরিটি ডুবে যায়।

এরপর ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধারে কাজ শুরু করে ‘হামজা’। এতে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। ঘটনার চতুর্থ দিনে ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে রুস্তম নামের বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী আরেকটি জাহাজ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ফেরির সঙ্গে ডুবে যাওয়ায় ১৪টি পণ্যবাহী যানবাহন ও ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা এসব যানবাহন মালিকদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন