default-image

বাল্যবিবাহের খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে এক কাজির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই চারজন কাজির কাছে নিজেদের মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাঁদের সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রাম থেকে আটক করা হয়। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কবীর।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার চারজন হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা মোল্লাপাড়ার আবদুল মান্নান, একই গ্রামের হাফিজুর রহমান, একই উপজেলার আদালতপুর চালতেতলা গ্রামের রবিউল ইসলাম ও সাতক্ষীরা শহরের কুকরালী এলাকার মোশাররফ হোসেন।
অভিযোগ করা কাজির নাম মো. আসাদু্জ্জামান সরদার। তিনি বেউলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার। আজ শুক্রবার সকালে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগ জানিয়ে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

মো. আসাদুজ্জামান সরদার জানান, গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আবদুল মান্নান, মোশারফ হোসেন, হাফিজুর রহমান ও রবিউল ইসলাম নামের চার ব্যক্তি দুটি মোটরসাইকেলে করে তাঁর বাড়িতে আসেন। এ সময় তাঁরা নিজেদের মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক পরিচয় দেন। বাল্যবিবাহ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর কাছে তাঁরা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া ও সংবাদ ছাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বাল্যবিবাহ দেন না বলে জানালে ওই চারজন আরও বেপরোয়া হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁদের বাড়িতে বসিয়ে রেখে তিনি জেলা রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি মুঠোফোনে জানান। জেলা রেজিস্ট্রার তাঁকে ঘটনাটি থানায় অবহিত করতে বলেন। তবে ওই চারজনের সঙ্গে তর্ক–বিতর্ক চলার সময় স্থানীয় লোকজন চলে এলে ওই চারজন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন মোটরসাইকেলের চাবি আগে থেকে তুলে নেওয়ায় তাঁরা সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

আসাদুজ্জামান আরও জানান, ওই চারজন তাঁদের মোটরসাইকেল ফিরে পেতে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নেন। আশাশুনি থানা–পুলিশের ফোন পেয়ে ওই চারজন মোটরসাইকেল ফিরে পাওয়ার জন্য রাত নয়টার দিকে বেউলা গ্রামে যান। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশও আসে। পরে চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ তাঁদের আটক করে।


চারজন গ্রেপ্তারের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কবীর। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে আজ শুক্রবার সকালে থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী নুরুন্নবীকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন