প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রথমে ঠনঠনিয়া টার্মিনালে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে অভিযান চালানো হয়। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়ে কাউন্টার ব্যবস্থাপক কামাল হোসেনকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া শাহ ফতেহ আলী, একতা পরিবহন এবং এসআর ট্রাভেলসের কাউন্টারেও অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা পান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় জরিমানা করার প্রতিবাদে পরিবহনশ্রমিকেরা টার্মিনালের বাইরে এসে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। প্রথম দফায় প্রায় ২০ মিনিট অবরোধের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। আবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম সেখানে পৌঁছালে পরিবহনশ্রমিকেরা কাউন্টার বন্ধ রেখে আড়াআড়িভাবে বাস রেখে দ্বিতীয় দফা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় অবরোধকারীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িও আটকে দেন।

এ সময় আমিনুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে মালিক সংগঠনকে কিছুই জানানো হয়নি। পরিবহনমালিকদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই এ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তাই ব্যবস্থাপককে করা জরিমানার অর্থ ফেরত দিতে হবে।
টানা পৌনে এক ঘণ্টা শহরের সাতমাথা-শেরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কের দুই পাশে বাস, অটোরিকশা ও রিকশা আটকে যানজট তৈরি হয়। পরে সদর থানা ও ট্রাফিক পুলিশ অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বেলা একটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে বাস কাউন্টারগুলো খুলে দেওয়া হয়।

এদিকে অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। এসআর পরিবহনের যাত্রী আলী আজম বলেন, ‘গরমের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা স্ত্রী-শিশুসন্তান নিয়ে কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কাউন্টার বন্ধ করে শ্রমিকেরা রাস্তায়। দুপুর ১২টার বাস কখন ছাড়বে সেটাও জানা নেই।’

default-image

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাসযাত্রী বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পাঁচ-ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেছে, তাতেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েছেন শ্রমিকেরা। তাঁরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ বিন মনসুরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদ ফোন কেটে দেন।

বগুড়ার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, কাউন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রতিবাদে শ্রমিকেরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়ে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন