বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মারা যাওয়া বাবুল হোসেন ওই এলাকার সফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন বলে জানা গেছে। বিয়ের দিনেই এমন ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও নিহত বাবুলের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নির্মাণশ্রমিক বাবুল হোসেনের সঙ্গে জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের শালবাড়ি-দিনবাজার এলাকার এক মেয়ের বিয়ে হয়। রাতে নববধূকে নিয়ে বাড়িতে আসা হয়। বাড়িতে আসা স্বজনেরা ঘুমাতে চলে যান। বাড়িতে ঘরের সংকট থাকায় রাত একটার দিকে বাবুল হোসেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে যে ঘরে ঘুমোতে যান, সেখানে নববধূর সঙ্গে আসা তাঁর দাদি ও দুটি শিশুও ঘুমাতে যায়। এমনকি একই ঘরে বরের এক ভগ্নিপতিসহ অন্য আত্মীয়রাও ঘুমান। এ নিয়ে বর বাবুল হোসেনর সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকজনের কিছুটা মনোমালিন্য হয়।

পরে শনিবার ভোরে বাবুলের বড় ভগ্নিপতি হোসেন আলী ঘর থেকে বেরিয়ে কলের পাড়ে যাওয়ার সময় রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় বাবুলকে ঝুলতে দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় ঝুলন্ত বাবুলকে মৃত অবস্থায় নামিয়ে মাটিতে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠায়।

নিহত বাবুল হোসেনর ছোট ভগ্নিপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাত একটার দিকে সবাই যখন ঘুমাতে যায়, তখন আমিও ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্য ঘরে ঘুমাতে যাই। সারা দিন ক্লান্ত থাকায় শোবার পরপরই ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে চিৎকার শুনে উঠে দেখি, বাবুল রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। তবে তার পা দুটো মাটিতে লাগানো ছিল। এমন দৃশ্য দেখে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি, পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেছে। এর বেশি আমি কিছু জানি না।’

দেবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহকিলুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা লাশটি রান্নাঘরে নামানো অবস্থায় পেয়েছি। তবে তখনো গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। লাশের প্রাথমিক সুরতহালে থুতনির নিচে একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন দাবি করছেন, বাবুল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

এসআই শাহকিলুর রহমান আরও বলেন, নববধূর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও ক্লান্ত থাকায় তিনি রাত একটার দিকে শোবার পরপরই ঘুমিয়ে যায়। এ সময় তার স্বামী পাশে ছিলেন কি না, তা–ও তিনি বলতে পারছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন