বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গতকাল রোববার লঞ্চে ৩৫ শতাংশ এবং বাসে ২৭ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয়। আজ সকাল থেকেই বর্ধিত ভাড়ায় বাস চলাচল শুরু হয়। বরিশাল থেকে পয়সারহাট ৫২ কিলোমিটার পথের আগের বাসভাড়া ছিল ৮২ টাকা। এখন তা ৯৭ টাকা। একইভাবে, বরিশাল থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার পথের আগের ৭২ টাকা ভাড়ার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ৮৫ টাকা। বরিশাল থেকে নেছারাবাদের আগের ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৫৭ টাকা। লঞ্চ-বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বলেন, আয় না বাড়লেও গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করা পকেট কাটার ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই না।

বরিশাল থেকে মীরগঞ্জের দূরত্ব ১৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এখানে আগে ভাড়া ছিল ২৫ টাকা। কিন্তু নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ টাকা। রেহেনা বেগম বরিশালের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি নিয়মিত মিরগঞ্জ থেকে বরিশালে আসেন। আজ বাড়ি ফেরার সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বেতন তো বাড়েনি, ভাড়া বেড়েছে। এ দেশে মানুষের কথা কি কেউ ভাববে না? খুব অসহায় লাগছে।’

মজিবর রহমান ক্ষোভ আর আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘জনগণই শেষ পর্যন্ত বলির পাঠা হয়। সরকার তেলের দাম না কমিয়ে বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দিল। এভাবে আমাদের ওপর জুলুম করার চেয়ে একবারে মেরে ফেলাই ভালো।’

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাসরেক বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর আমাদের প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। কিলোমিটারপ্রতি ১ দশমিক ৮০ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা করা হয়েছে।’

বরিশাল-ঢাকা রুটের একটি পরিবহনের কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আনিসুর রহমান বলেন, বরিশাল-ঢাকা রুটে নন-এসি বাসে ৫০০ টাকার স্থলে ৬৫৫ টাকা এবং এসি বাসে ৮০০ টাকার স্থলে ১ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে সাকুরা পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, ‘আমরা এখনো ভাড়ার তালিকা পাইনি। তাই আগের ভাড়াই নিচ্ছি। তবে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানি বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছে।’

বাসভাড়ার পাশাপাশি লঞ্চের ভাড়াও বেড়েছে। আজ বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে জানা যায়, বরিশাল থেকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট রুটের লঞ্চে আগে যাত্রী ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। নতুন বর্ধিত ভাড়ায় এখন ওই রুটে জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা।

বরিশাল-ঢাকাসহ দূরপাল্লার রুটের লঞ্চেও কেবিন ও ডেক যাত্রীদেরও ভাড়া বেড়েছে। বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চের ডেকে আগে ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। নতুন হারে জনপ্রতি ডেকভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা। একইভাবে, ডাবল কেবিন ২ হাজার ১০০ টাকার স্থলে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার টাকার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়াও এক হাজার টাকা করে বেড়েছে।

আতিকুর রহমান নামের এক লঞ্চ যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, লঞ্চ-বাসমালিকেরা ধর্মঘট করেছে। তাদের সন্তুষ্ট রাখতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের তো ধর্মঘট করার সাধ্য নেই। আমাদের এখন এই দেশের নাগরিক মনে করে না কেউ। আমরা কোথা থেকে এনে এই বাড়তি ভাড়া দেব?’ শাকিল আহমেদ নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘দেশের কোন জিনিসটা এখন কম দামে পাওয়া যায়, বলতে পারেন? মুখ বুজে সব সহ্য করতে হবে কিছুই বলার নাই।’

৩ নভেম্বর রাতে ডিজেলের দাম একলাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা লিটার করেছে সরকার। এর ফলে ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে গত শুক্রবার ভোর থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন মালিকেরা। এরপর তিন দিন ধরে পথে পথে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। এর সঙ্গে লঞ্চ ধর্মঘট যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়। সংকট নিরসনে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বনানী কার্যালয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির বৈঠক হয়। বাসমালিকদের পাঁচ ঘণ্টার এ বৈঠক শেষে বর্ধিত ভাড়া ঘোষণা করা হয়, যা আজ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন