বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘১৪ ঘণ্টা বাসের লকারে বন্দী ৪৬ ছাগল’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে আসে। পুলিশ সদর দপ্তর এ ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রথমে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেয়।

দিনাজপুর থানা-পুলিশ জানতে পারে বাসটি সেখান থেকে ছাড়লেও শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে ৪৬টি ছাগল লকারে ভরা হয়েছিল। পরে পুলিশ সদর দপ্তর শিবগঞ্জ থানা-পুলিশকে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর তদন্তে বেরিয়ে আসে বুধবার রাতে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা নওশিন পরিবহন নামের বাসটি দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকুরতলা বাসস্ট্যান্ডে থামলে দুই ব্যাপারী মোয়াজ্জেম ও জিন্নাহ সিলেটের এক ব্যবসায়ীর কাছে লকারে ভরে ৪৬টি ছাগল পাঠান। ১৪ ঘণ্টার যাত্রায় ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ওসি সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, দুই ব্যাপারী ছাড়াও বাসের চালক ও সহকারীসহ জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯–এর ধারায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশনস) মো. সো‌হেল রানা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন আইনত দণ্ডযোগ্য অপরাধ।

জানতে চাইলে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা নওশিন পরিবহনের মালিক নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই বাসের চালক ছিলেন আবু বক্কর। আর সুপারভাইজার ছিলেন আলমগীর হোসেন। বিকেলে সিলেটের উদ্দেশে দিনাজপুর থেকে বাসটি ছেড়ে যায়। পথে তাঁরা কোথায় মালামাল তুলেছেন, সেটা মালিক হিসেবে আমার জানার কথা নয়। তবে মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত বাসের লকারে এভাবে ছাগল পরিবহন করা উচিত হয়নি, নির্দয় কাজ হয়েছে।’

জানতে চাইলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দূরপাল্লার বাসের লকারে এভাবে পশু নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশ মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস উইংয়ের নজরে আসে। পরে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্ত করে বেরিয়ে আসে বাসটি দিনাজপুর থেকে ছেড়ে গেলেও ছাগলগুলোকে তোলা হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন