বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পবিত্র রাজবংশীর সঙ্গে আরও কয়েকজন জেলে মাছ নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বসে আছেন। পাকুল্যাসহ আশপাশের এলাকা থেকে তাঁরা মাছ ধরে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বাস না পেয়ে মাছগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ডসহ মির্জাপুরের জামুর্কী থেকে গোড়াই ক্যাডেট কলেজ পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকার প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডেই একই চিত্র। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে চলমান ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে মানুষ বাড়তি ভাড়ায় মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন এসব যানের চালকেরা।

default-image

পাকুল্যা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত জনপ্রতি ৮০ টাকা ভাড়া হাঁকছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাস বন্ধ। আমাগো বাড়তি কিছু ইনকামের জন্য রাস্তায় নামছি।’ অথচ একই দূরত্বে বাস ভাড়া ৩০ টাকা।

কদিমধল্যা বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মির্জাপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের করটিয়া থেকে পাকুল্যা পর্যন্ত ২০ টাকা ভাড়ায় ম্যাক্সিতে এসেছেন। সেখান থেকে মির্জাপুরের উদ্দেশে একটি কারখানার শ্রমিক বহনকারী মিনিবাসে ওঠেন। কিন্তু পথে কদিমধল্যাতে বাসটি নষ্ট হয়। তাই এখন অন্য কোনো উপায়ে কর্মস্থলে যেতে তিনি এখন অপেক্ষা করছেন।

মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে দেখা যায়, বাস বন্ধ থাকলেও পন্যবাহী কিছু ট্রাকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলছে। বাস বন্ধ থাকার সুযোগে ব্যাটারিচালিত সিএনজি–অটোরিকশাসহ তিন চাকার যানগুলো এখন সার্ভিস লেন ছেড়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলছে।

মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, মহাসড়কে বাস না চললেও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলছে। সার্ভিস লেন ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে চলাচলকারী অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন