বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর প্রবাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে যমুনা ও তিস্তা নিয়ে কথা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে। নাব্যতা ফিরে এলেই, নৌ চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। ইতিমধ্যে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করা হয়েছে। দশ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাটে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন স্থাপনা করা হয়েছে। বিশাল দুটি প্রবেশদ্বারের সঙ্গে ভেতরে বাস টার্মিনাল, টোল আদায় বুথ, পুলিশ ব্যারাক, আনসার ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ফেরির নাবিকদের ব্যারাক, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, জেনারেটর সাবস্টেশন, বিশ্রামাগার, মসজিদ, রেস্তোরাঁ, শৌচাগার ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা করা হয়েছে। কিন্তু নাব্যতা–সংকটের কারণে এসব স্থাপনা নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ফেরি সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন পরীক্ষামূলকভাবে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হলো। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে শুধু লঞ্চ সার্ভিস চালু করায় যাত্রীরা খুব বেশি উপকৃত হবে না।

default-image

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ নৌরুট চালু করে। এপারে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট ওপারে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট। তখন থেকে এই রুটের মাধ্যমে ঢাকা-দিনাজপুর রেল যোগাযোগ চালু ছিল। উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার মানুষ ট্রেনে করে তিস্তামুখ ঘাটে যেতেন। এরপর তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি পারাপার হতেন। ওপারে বাহাদুরাবাদে গিয়ে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যেতেন। সে সময় কম খরচে নিরাপদে ঢাকা যাতায়াত করা যেত।

১৯৯০ সালে নদীর নাব্যতা–সংকটের কারণে তিস্তামুখ ঘাটটি একই উপজেলার বালাসীতে স্থানান্তর করা হয়। এ জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী থেকে বালাসী পর্যন্ত নতুন প্রায় ছয় কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। তখন বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটের মাধ্যমে একইভাবে রেল যোগাযোগব্যবস্থা চালু ছিল। তৎকালীন বালাসীঘাটে রেলওয়ের নানা ধরনের ৩০টি নৌযান ছিল। ২০১৫ সালের পর থেকে এসব নৌযান বিক্রি শুরু হয়।

১৯৯৬ সাল থেকে যমুনা নদীতে নাব্যতা হ্রাসের কারণে বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে যমুনা বহুমুখী সেতু চালু হয়। ফলে ২০০০ সাল থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অকার্যকর হয়ে পড়ে বালাসীঘাট। তখন থেকে প্রায় ২২ বছর বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। তবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার অব্যাহত ছিল।

২০১৬ সালে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে নৌ, সড়ক, স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেল ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধিরা এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরে পরিকল্পনা কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর ১৩৬ কোটি টাকার ঘাট চালুর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়।

জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ও গাইবান্ধার বালাসীর ২৬ কিলোমিটার নৌপথ। এ রুটে গত বছরের জুন থেকে পুরোদমে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে আসায় ওই পথ দিয়ে কয়েক দফায় পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফেরি চালানো সম্ভব হয়নি। এরপর গত বছরের এপ্রিলে নৌরুটটির সমস্যা খুঁজে দেখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) একটি কমিটি করে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যমুনা নদী খুবই পরিবর্তনশীল এবং ঘন ঘন রুট পরিবর্তন করায় নৌপথ সংরক্ষণ করতে বছরে ৩২ থেকে ৩৩ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করতে হবে। ফেরি চালাতে হলে এ রুটে সার্বক্ষণিক ছয় থেকে সাতটি ড্রেজার রাখতে হবে। বছরে ব্যয় হবে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা।

তখন আরও জানানো হয়েছিল, রুটটি ফেরি চলাচলের উপযোগী নয়। পরে এই রুটে স্পিডবোট ও লঞ্চে যাত্রী পারাপারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই ভাবনা থেকেই অবশেষে এই রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলার এবং উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলার মানুষকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে চলাচল করতে হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন