default-image

রাজশাহী নগরের একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন নাটোরের এক ব্যবসায়ী। সেখানে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়। খাতির জমিয়ে ওই নারী তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারীর সঙ্গে ব্যবসায়ীর আপত্তিকর ছবি তোলেন তাঁর স্বামী। সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে চাওয়া হয় আরও দুই লাখ টাকা।

গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন নগরের কয়েরদাঁড়া এলাকার রবিউল ইসলাম (৪৮) ও আরিফ হোসেন (২৮)। সম্পর্কে তাঁরা শ্বশুর-জামাই।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁরা একটি চক্রের সদস্য। এ রকম পরিচয়ে তাঁদের সবাই চেনে। তাঁরা ভালো ভালো মানুষকে ভালোভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিয়ে দেন। নারীর সঙ্গে জোর করে আপত্তিকর ছবি তোলেন। তারপর টাকাপয়সা আদায় করেন। এটাই তাঁদের পেশা। একটি অভিযোগ পেয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে এক ব্যবসায়ী শহরের একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে এসেছিলেন। সেখানেই রবিউলের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই নারী তাঁকে বাসায় ডেকে নিয়ে যান। ওই ব্যবসায়ী সেখানে গেলে রবিউল তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে আপত্তিকর ছবি তোলেন। তখন রবিউলের জামাতা আরিফসহ আরও তিনজন ছিলেন। তাঁরা ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা কেড়ে নেন। এরপর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যবসায়ীর কাছে আরও দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় এসে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে রবিউল ও তাঁর জামাতা আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, মামলায় রবিউলের স্ত্রীসহ আরও তিনজন আসামি আছেন। তাঁরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন