বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্মৃতির হাসিমাখা মুখ দেখে আনন্দিত স্বাস্থ্য সহকারী ফজলুক হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাতে ওষুধ ধরিয়ে দেওয়ার পর খুশি হননি, এমন একজন প্রসূতিও ছিলেন না আজ।’

আজ শুক্রবার বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় দিবসটি আগের দিন বৃহস্পতিবার উদ্‌যাপন করা হয়। দিবসকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ প্রসূতিদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে আসার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা সফল করতে ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। তারপর প্রসূতির তথ্য অনুসরণ করে ওষুধের প্যাকেট করা হয়। পরে ২০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর নেতৃত্বে আরও ১২২ জন স্বাস্থ্যকর্মীর অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল করা হয়। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ১ হাজার ৯২ জন প্রসূতি ঘরে বসে সেবা পান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিয়ম হলো প্রসূতিদের ৯ মাস স্বাস্থ্যসেবার আওতায় থাকতে হয়। অষ্টগ্রাম হাওরবেষ্টিত উপজেলা। হাওরের বৈশিষ্ট্য হলো বর্ষায় যোগাযোগে নৌকার বিকল্প নেই আর গ্রীষ্মে পায়ে হাঁটা ছাড়া উপায় থাকে না। আটটির মধ্যে আবদুল্লাহপুর, আদমপুর ও কলমা ইউনিয়ন উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। ওই তিন ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে তিন ঘণ্টার আগে আসা যায় না। ফলে এমনিতেই তিন ইউনিয়নের প্রসূতিসেবা সফল করা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়। করোনার বাস্তবতা শুরু হওয়ায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে করোনার প্রতিকূল পরিবেশেও যেন প্রসূতিসেবা ব্যাহত না হয়ে সহজ হয়—সেই কারণে একসঙ্গে এক থেকে তিন মাসের ওষুধ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নে সেবাদানকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারী জারহান মিয়া ছিলেন ইউনিয়নের রফানী আনোয়ারপুর ও দক্ষিণ বাঙ্গালপাড়া গ্রামে। তিনি আজ ৭০ জন প্রসূতির ঘরে সেবা পৌঁছে দেন।

কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ। গতকাল সকালে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘এককথায় বলব করোনায় ঘরবন্দীর এ সময়ে কর্মসূচিটি প্রসূতিদের মন ভালো করা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বটিকা হিসেবে কাজ করেছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন