ছালাম হাওলাদারের ভাষ্য, এক বছর আগে গামইরতলা গ্রামে নিজ জমিতে বাড়ি করে বাস করছেন তাঁরা। প্রতিবেশী চাচাতো ভাইদের সঙ্গে নিয়েই তখন বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি হঠাৎ প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

ছালাম হাওলাদার বলেন, ‘গতকাল বিকেলে চাচাতো ভাইয়েরা দলবলে আইয়া আমার ওপর হামলা চালাইছে। আমারে যখন দা-ছেনি দিয়া কোপাইতে থাকে, হেইয়া দেইখা আমার স্ত্রী ফিরাইতে গেলে হ্যারেও কোপাইয়া জখম করা হয়। একপর্যায়ে আমরা মাটিতে পইড়া গেলে লাঠি দিয়া দুজনকেই পিটানো হয়। এমনকি অরা চার-পাঁচজন আমাগো শরীরের ওপরে উইঠ্যা পা দিয়া পাড়াইছে।’ পরে ছালাম হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী কাকলী আক্তারের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

কাকলী আক্তার বলেন, ‘আমাগো কোনো দোষ নাই। আমরা গরিব মানুষ। খামাখা অরা আমাগো ওপর হামলা চালাইছে। আমরা খুব অসহায় মানুষ। ওষুধপত্র যে কিন্যা খামু, হেই সম্বলটুও আমাগো নাই। আমাগো ওপরে যারা হামলা করছে, হ্যাগো যেন ন্যায্য বিচার হয়।’

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জে এইচ খান লেলিন বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাকলী আক্তারের মাথা থেকে ঘাড় পর্যন্ত গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শরীরে ১৮টি সেলাই লেগেছে। এ ছাড়া ছালাম হাওলাদারের বাঁ হাতের বাহুতে ও কবজির ওপরে কোপ লেগেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা অসচ্ছল বলে অন্য হাসপাতালে যেতে অপারগতা জানান।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসীম প্রথম আলোকে বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ আহত দুজনকে দেখে এসেছে। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন