default-image

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় বাড়ি ও জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য এক বৃদ্ধ নারীকে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধ নারীর নাম মোছা.বকুলনেছা (৭০)। তাঁর দেবরের ছেলে মো. আলাল উদ্দিন (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ বকুলনেছার।

আজ বুধবার বিকেলে এক প্রতিবেশীর সহায়তায় বকুলনেছা নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বাড়িতে লোক না থাকায় আহত অবস্থায় এক দিন বাড়িতে কাটান তিনি।

বকুলনেছার বাড়ি উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামে। বকুলনেছার ভাষ্য, ৪০ বছর আগে তিনি বিধবা হন। তাঁর ছয় সন্তানের সবাই মেয়ে। স্বামীর ভিটায় বসবাস করে ও জমিজমা চাষ করে ছয় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে তাঁর সেবাযত্ন করার জন্য নাতনিসহ এক মেয়েকে বাড়িতে এনে রেখেছেন। সম্প্রতি তাঁর দেবরপুত্র আলাল উদ্দিনের নজর পড়ে তাঁর স্বামী মৃত মকবুল হোসেনের বসতভিটা ও জমিজমার ওপর। এসব ছিনিয়ে নিতে তাঁকে মারধর করেন আলাল উদ্দিন ও তাঁর লোকজন। নির্যাতনের ঘটনায় তিনি মামলা করলে আলাল উদ্দিন আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, ‘বকুলনেছার আর্তনাদ আর সহ্য করা যায় না। আপনারা আলালের বিরুদ্ধে এমন একটা ব্যবস্থা করে দিন, যাতে জীবদ্দশায় তিনি যেন বৃদ্ধাকে আর নির্যাতন না করতে পারেন।’ নির্যাতনের ফলে সৃষ্ট শারীরিক আঘাতগুলো দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বকুলনেছা।

অভিযোগের বিষয়ে আলাল উদ্দিনের ভাষ্য, বৃদ্ধা নিজের শরীর নিজে জখম করে তাঁকে ফাঁসাতে চাইছেন। তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ভান করছেন। জমিজমা দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘এসব আমার পৈতৃক জমি। কিন্তু বৃদ্ধা আমাদের জমির মালিকানার দলিল দেখাচ্ছে না।’

জমিজমার মালিকানা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে জানান নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বকুলনেছা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেটি বিচারের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। জমিজমার বিষয়ের সমাধান থানা-পুলিশের হাতে নেই। এ বিষয়ে সমাধান পেতে হলে দেওয়ানি আদালতে যেতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন