বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তুলতে গিয়ে আটক তিন তরুণ-তরুণী

রাজশাহী জেলার মানচিত্র

‘আপনারা কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী?’ জবাবে এক তরুণ বলেন, তাঁরা কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নন। ‘তাহলে বাড়ি বাড়ি থেকে টাকা তুলছিলেন কেন?’ এ প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ বলেন, ‘অভাব। হাতে টাকাপয়সা নাই, করোনাকাল তাই।’ পুলিশের গাড়িতে উঠতে উঠতে মিনহাজ নামের একজন তরুণ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।

আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য এরশাদুল হক ও সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কোহিনুর বেগম তিন তরুণ-তরুণীকে ধরে নৌকায় করে পদ্মা নদী পার করে রাজশাহী নগরের শ্যামপুর বালুঘাটে নিয়ে আসেন। সেখানেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। নৌকা থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তাঁদের সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন হলেন রাজশাহী নগরের খোজাপুর এলাকার মিনহাজুল হোসেন (২৭), একই এলাকার সম্রাট আলী (২৬) এবং মুন্নাফের মোড় এলাকার ফাল্গুনী খাতুন (১৮)। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শিশুদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে পবা উপজেলার চরাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি থেকে টাকা আদায় করতে গিয়ে ওই তিন তরুণ-তরুণী ধরা পড়েছেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের পুলিশে দিয়েছেন। রাজশাহী মহানগরের কাটাখালী থানা-পুলিশ ওই তিন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে।

শিশুদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে বা উপজেলার চরাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি থেকে টাকা আদায় করতে গিয়ে ওই তিন তরুণ-তরুণী ধরা পড়েছেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের পুলিশে দিয়েছেন।

হরিয়ান ইউনিয়নের চরখিদিরপুর গ্রামের যুবক আপেল বলেন, যেসব বাড়িতে শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু রয়েছে, সেসব বাড়িতে গিয়ে ওই তরুণ-তরুণীরা বলছিলেন, ১৮ মাস ধরে এই শিশুদের জন্য সাড়ে ৯ হাজার টাকার বরাদ্দ আসবে। ছয় মাস পর প্রথম কিস্তির ১ হাজার ৮০০ টাকা, পরবর্তী ছয় মাস পর দ্বিতীয় কিস্তির ৩ হাজার টাকা এবং পরের ছয় মাস পর চূড়ান্ত কিস্তির ৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এ জন্য ফরম পূরণ করতে হবে। প্রতিটি ফরমের জন্য তাঁরা ২৫০ টাকা করে নিচ্ছিলেন।

আগের দিন তাঁরা চরখিদিরপুর গ্রাম থেকে একইভাবে ২৫ হাজার টাকা তুলেছিলেন। আর আজ ২৮টি শিশুর টাকা নিয়েছিলেন। তাঁরা শিশুদের জন্মনিবন্ধন কার্ডও নিয়েছিলেন। ধরা পড়ার পর তাঁদের কাছ থেকে কার্ডগুলো নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হরিয়ান ইউপির চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড চরখিদিরপুরে গতকাল শুক্রবার একদল তরুণ-তরুণী গিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে মানুষে বাড়ি থেকে টাকা আদায় করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যাঁরা এই ফরম পূরণ করবেন, তাঁরা পরে সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পাবেন। একইভাবে শনিবার এই তিন তরুণ-তরুণী গিয়ে টাকা তুলছিলেন। এর আগে তাঁরা অন্য চরে গিয়ে একইভাবে টাকা তুলেছেন। স্থানীয় মানুষ সরল বিশ্বাসে তাদের টাকা দিচ্ছিলেন। তাঁদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে ইউপি সদস্য এরশাদুল হক চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি কাটাখালী থানার পুলিশকে অবহিত করেন।

চরখিদিরপুর এলাকাটি রাজশাহী নগরের কাটাখালী থানার অধীনে। এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আলম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, এই তরুণ-তরুণীরা আন্তর্জাতিক একটা সংস্থার নামে ফরম ছাপিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলছিলেন। তাঁদের নামে প্রতারণার মামলার প্রস্তুতি চলছে।