বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দীঘিনালায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১১২টি। শিক্ষার্থী কমপক্ষে সাড়ে ১৭ হাজার। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন ৫২৭ জন। তাঁরা নিজেরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে আওতাভুক্ত গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছেন। নিয়ে যাচ্ছেন সাপ্তাহিক পাঠপরিক্রমা। তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ২১ মে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শিক্ষকেরা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে পাঠদান শুরু করেছেন।

২৪ মে সকালে উপজেলার পূর্ব থানাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় প্রদীপ মুৎসুদ্দীর বাড়ির উঠানে দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির ৫৬ জন শিক্ষার্থী পাঠ নিতে এসেছে। সঙ্গে ছিলেন অনেক অভিভাবকও। এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠপরিকল্পনা বুঝিয়ে দেওয়া এবং অভিভাবকদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কামনা ত্রিপুরা, সহকারী শিক্ষিকা শর্মী চাকমা ও জেসমিন আক্তার।

শিক্ষকেরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত গ্রামে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রায় ৫৫০ গ্রামে শিক্ষকেরা পাঠপরিকল্পনা বিতরণ শেষ করেছেন।
সুস্মিতা ত্রিপুরা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), দীঘিনালা

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মানিক মিয়া, আর্জিনা আক্তার ও চতুর্থ শ্রেণির সাম্প্রী ত্রিপুরা, লিজা আক্তার বলে, ম্যাডামরা তাদের গ্রামে এসে পাঠ্যবইয়ের সব বিষয়ের ওপর পড়া দিয়েছেন। ক্লাসের মতো করে বুঝিয়েও দিয়েছেন।

অভিভাবক রোকেয়া আক্তার বলেন, শিক্ষকেরা তাঁদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। একই কথা বলেন অভিভাবক নার্গিস বেগম ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিপুরা।

দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন সহকারী শিক্ষকও ৬টি দলে ভাগ হয়ে ৮টি গ্রামে ৫১৭ জন শিক্ষার্থীকে পাঠপরিকল্পনা বিতরণ করেছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষিকা কামনা ত্রিপুরা।

কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের আওতাধীন ৭টি গ্রামে ৬ জন শিক্ষক ৪২৫ জন শিক্ষার্থীকে গ্রামে গিয়ে পাঠপরিকল্পনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহের পাঠপরিক্রমা কার্যক্রম শেষ করেছেন তাঁরা।

শিক্ষকেরা জানান, প্রতিদিন গ্রাম ভিত্তিতে পাঠদান করছেন। সকাল থেকে শুরু করে পাঠদান চলে বিকেল পর্যন্ত। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সবার পাঠদান চলে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুস্মিতা ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য দুই সপ্তাহের পাঠপরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। আরও ছয় সপ্তাহের পাঠপরিকল্পনা পাঠানো হচ্ছে। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকেরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত গ্রামে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। ২১ মে শুরু হওয়ার পর বয়স্ক ও অসুস্থ শিক্ষক-শিক্ষিকা বাদে প্রায় ৪০০ জন শিক্ষক ২০০টি দলে ভাগ হয়ে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠপরিকল্পনা বিতরণ করে তা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৫৫০ গ্রামে শিক্ষকেরা পাঠপরিকল্পনা বিতরণ শেষ করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন