বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বুধবার সকালে বাগাতিপাড়ার তমালতলা বাজারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্যসচিব রহিম নেওয়াজ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৪১ সদস্যের বাগাতিপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২৩ অক্টোবর তাঁদের স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবীর স্বাক্ষরও রয়েছে, যা অবাস্তব। বাগাতিপাড়া উপজেলা কমিটির তালিকার ২৫ নম্বর ক্রমিকে নূরপুর মালঞ্চি গ্রামের আজিজুল হক ও পৌর কমিটির ৩১ নম্বর ক্রমিকে নড়ইগাছা গ্রামের আহাদ আলীর নাম উল্লেখ আছে। তাঁরা দুজন অনেক আগেই মারা গেছেন।

আজিজুল হকের ছোট ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন।’ এ ছাড়া আহাদ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার বাবা ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর মারা গেছেন। তাঁদের কমিটিতে ঢোকানো ঠিক হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা–কর্মীরা তমালতলা বাজারের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলে।

বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফার দাবি, ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত ব্যক্তিদের নাম ঢোকানো হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে অসুস্থ, মাদকাসক্ত, অরাজনৈতিক ব্যক্তি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য আছে, এমন ব্যক্তি, ঢাকায় চাকরিরত এবং আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের স্বজনদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাদের জায়গা দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা–কর্মীরা তমালতলা বাজারের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন, যুবদলের সাবেক নেতা কামরুল ইসলাম, আবু সাঈদ ও সাজদার হোসেন।

লালপুর উপজেলা ও গোপালপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়েও বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লালপুর উপজেলা ও গোপালপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়েও বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমানের ছেলে মো. ইয়াসির আরশাদকে আহ্বায়ক ও হারুনর রশিদকে সদস্যসচব করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে বুলবুল আহমেদ, সদস্য হিসেবে আতিকুল্লাহ বিশ্বাস, ওয়াহেদুজ্জামান সরকার, আমিনুল ইসলাম, সাইদুজ্জামান ও রবিউল ইসলামের নাম রয়েছে। তাঁরা একসময় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। তাঁরা সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছুই জানেন না। বুধবার তাঁরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁদের অনুমতি না নিয়েই তাঁদের নাম আহ্বায়ক কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ–আলোচনাও করা হয়নি। তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার এক লিখিত প্রতিবাদপত্রে আতিকুল্লাহ বিশ্বাস জানান, তিনি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অথচ আহ্বায়ক কমিটির ১৫ নম্বর ক্রমিকে তাঁর নাম দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তিরস্কার জানিয়ে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, স্থানীয় নেতারা যে তালিকা পাঠিয়েছেন, সে অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকাটি অনেক দিন আগে পাঠানো হয়েছিল। তাই মৃত কিছু লোকের নাম কমিটিতে এসেছে। যদি কারও অনুমতি ছাড়া নাম এসে থাকে, তাহলে সে নাম পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় বাদ দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন