default-image

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে উপনির্বাচনের প্রচার নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর গ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। অন্যদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ছুরি নিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করা হয়।

আহতরা হলেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানা, যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ত্রাণসম্পাদক রানা মিয়াসহ পাঁচজন।

বিজ্ঞাপন

জেলা বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই জেলা বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। বিভক্তি নিরসনের জন্য জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ফলে বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতা–কর্মীরা। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জেলা বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এর মধ্যে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের উপনির্বাচনে হাবিবুর রহমানকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী হাবিবুর রহমানের বিপক্ষে থাকা নেতা-কর্মীরাও তাঁর পক্ষে কাজ শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকেই জেলা যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। দলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে তাঁরা জেলা যুবদল নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ভালো চোখে দেখছিলেন না।

এরই ধারাবাহিকতায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিকেলে ঈশ্বরদী বাসস্ট্যান্ডে দলীয় কর্মিসভা শেষে নেতা-কর্মীরা উপজেলার সাহাপুর গ্রামে হাবিবের বাড়িতে খেতে যান। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবীর, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা জেলা যুবদল নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ছুরি দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করেন। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করে ঢাকায় চলে যান।

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ করা হলে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানা বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার শেষে আমরা খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এর মধ্যে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল এ হামলা চালিয়েছে। আমরা বিচার চাই।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, যুবদলের ছেলেদের মধ্যে একটু ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বড় করে দেখার মতো কিছু নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খাওয়াদাওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষে মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন। তাঁরাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। খবর পেয়ে আমরা ওই এলাকাতে নজরদারি বাড়িয়েছি। পরিবেশ শান্ত আছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।’

মন্তব্য পড়ুন 0