default-image

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী এহেসান কুফিয়ার প্রচারকাজে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর লোকজন বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর কর্মী–সমর্থকেরা বিএনপির প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন এবং তাঁদের নামে মামলা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী এহেসান কুফিয়া এসব অভিযোগ করেন। এর আগে তিনি দুবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবার মেয়র হন। তিনি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে এহেসান কুফিয়া অভিযোগ করেন, প্রচারণা চালানোর সময় তাঁকে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই বাধা আসছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষ থেকে। শুধু তা–ই নয়, কৌশলে তাঁকে ঘরবন্দী করে রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নৌকার প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকেরা ২২ বার হামলা চালিয়েছেন। শুধু হামলা চালিয়ে ক্ষান্ত হননি তাঁরা। নানা উপায়ে মামলার ভীতি ছড়িয়ে কর্মী–সমর্থকদের মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আগের নির্বাচনের মতোই এবারও কেন্দ্র দখল করে নৌকার জয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ করলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে এহেসান কুফিয়া অভিযোগ করেন, জেলার মধ্যে বাজিতপুরের নির্বাচনী পরিবেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী স্থানীয় সাংসদ আফজাল হোসেনের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমান মেয়র। দুই ভাইয়ের ক্ষমতার দাপটে বাজিতপুরে আর রাজনীতি নেই। রাজনীতি এখন ওই দুই ভাইয়ের পকেটে।

বিজ্ঞাপন

এহেসান কুফিয়া সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, এ পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ছিল ২৭ জানুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে ১২টি সুনির্দিষ্ট সশস্ত্র হামলার লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা আছে। দুঃখজনক হলো, একটিরও প্রতিকার মেলেনি। প্রথম হামলাটি হয় ২১ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা যখন সশস্ত্র হামলা চালান, তখন তিনি বাধ্য হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নিতে হয়। হামলাকারীরা তাঁর বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। ৩০ জানুয়ারি প্রচারে বের হওয়ার পর তাঁর মাইক ও অটোরিকশা ভেঙে ফেলা হয়। এই সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুদ্দিন উমরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়েন দিয়েছে নৌকার লোকজন। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে পৌর বিএনপির সদস্য নিজামউদ্দিন মিজানের সিএনবি রোডের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।

এই অবস্থায় কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোটের লক্ষণ দেখছেন না বিএনপির প্রার্থী। নিজের জীবন রক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রার্থী। একই সঙ্গে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন তিনি।

এই অবস্থায় কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোটের লক্ষণ দেখছেন না বিএনপির প্রার্থী। নিজের জীবন রক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রার্থী। একই সঙ্গে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন তিনি।

বাজিতপুর পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ্তিময়ী জামান। বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে বিএনপি প্রার্থীর বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রতিকারও করা হচ্ছে।’

বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নানা অভিযোগ সম্পর্কে নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি এখন দুর্বল। তার চেয়ে দুর্বল এহেসান কুফিয়া। রাজনীতি করলে জনগণের প্রয়োজন হয়। বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে কেউ নেই। কৌশলগত কারণেই তিনি আগেভাগে অভিযোগ করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন