গত রোববার ভোরের দিকে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বুড়িরবাড়ি গ্রামের ওপারে ভারতের চ্যাংরাবান্ধার শ্মশানঘাট গ্রামে বিএসএফের গুলিতে দুজন নিহত হন। তাঁরা হলেন উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী (২৬) ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার জগন্তাত বর্মণ ওরফে সাগর (৪০)।

নিহত ইউনুস আলীর বাবা বুলবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে গত রোববার বিজিবির কোম্পানি কমান্ডারকে লাশ ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন দিতে যান। কোম্পানি কমান্ডার তখন আবেদন নেননি। পরদিন সোমবার বিকেলে আবেদন নেন।

বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘(মঙ্গলবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আছি। লাশ পাব কি না, এ ব্যাপারে কথা বললে তারা (বিজিবি) বলে, ওপর থেকে আদেশ না হলে কিছু বলতে পারবে না। লাশের জন্য আমাদের লোকজন, আত্মীয়রাসহ বুড়িমারী স্থলবন্দর বিজিবি চেকপোস্টে অবস্থা নিই। পরে পুলিশ আমাদের তাড়িয়ে দেয়।’

নিহত জগন্নাথ রায় সাগরের স্ত্রী শামলী রানী বলেন, ‘আমার স্বামীর লাশ ফেরত চাই। নাহলে এখানে জীবন দেব।’ জগন্নাথ রায়ের বাবা ধনবর রায় বলেন, ‘ছেলের মুখ দেখার জন্য পড়ে আছি। কেউ আমাদের কথা শোনে না। তিন দিন গত হলো, লাশ পাব কি না, জানি না।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, বিএসএফের আহ্বানে বুড়িমারী স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক অভিবাসনচৌকির (আইসিপি) শূন্য রেখায় রোববার বেলা দেড়টা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ছয় সদস্য অংশ নেন। বাংলাদেশের পক্ষে ৬১ ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার ও ভারতের ১৪৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্ধা ক্যাম্প কমান্ডার নেতৃত্ব দেন।

বিজিবি সূত্রের ভাষ্যমতে, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ বলেছে, বাংলাদেশি গরু পারাপারকারীর (রাখাল) একটি দল বিএসএফের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এতে বিএসএফ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। ওই গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হন।
রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী স্থলবন্দর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার বেলাল হোসেন বলেন, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শুনেছি বিএসএফ লাশ ময়নাতদন্ত করেছে। লাশ ফেরত দিতে চায়, কিন্তু আমাদের এদিক থেকে তারা (বিএসএফ) কোনো সাড়া পাচ্ছে না। লাশ পাওয়া যাবে কি না, বলতে পারছি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন