বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর কোরবানি ঈদের অন্তত এক মাস আগে থেকেই পশুহাটগুলো জমতে থাকে। বিশেষ করে জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারী, দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি, সদর উপজেলার ভুলটিয়া ও আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাটে বিপুলসংখ্যক পশু বিক্রি হয়। এ বছর করোনার কারণে বাইরে থেকে ক্রেতারা আসেননি। আবার সরকারি-বেসরকারিভাবে অনলাইন পশুরহাট চালু করা হলেও তেমন সাড়া মেলেনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য জেলায় মোট পশুর দরকার হবে ৭৫ হাজার। সেখানে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫৫টি গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ৭ হাজার ৭৪৫টি খামারে ও পারিবারিকভাবে এগুলো পালন করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা পশুহাটের ইজারাদার হাসানুজ্জামান হান্নান বলেন, জেলায় ১ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা দামের গরু থাকে। স্থানীয় ক্রেতাদের চাহিদা এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা দামের গরু। বেশি দামের গরু কেনেন বাইরের ব্যাপারীরা। লকডাউনের কারণে অনেক দিন পশুহাট বসেনি। ব্যাপারীরাও আসেননি।

হাসানুজ্জামান আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে পশুহাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের এত কাছাকাছি সময়ে বিপুলসংখ্যক পশু কীভাবে হাটে তোলা হবে এবং বিক্রি হবে, সেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এ জন্য নির্ধারিত দিনের বাইরেও পশুহাট চালুর সুযোগ দরকার।

কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে গরু পালন করেছেন আলমডাঙ্গার মাজহাদ গ্রামের হাজ্জাজ হোসেন। এবার তিনি ৮৩টি গরু পালন করেছেন। প্রতিটির দাম দেড় লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, খামারটিতে ৪০টি গরু রয়েছে। হাজ্জাজ হোসেন ঢাকায় রয়েছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ৪৩টি গরু নিয়ে ঢাকায় গেছেন। বাকিগুলো অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করছেন।

সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক আশাবুল হক এক বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গরু পালন করছেন। তিনি জানান, ৯ মণ ওজনের গরুটি তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা দরে বিক্রি করতে চান। কিন্তু ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তারচেয়ে বেশি খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু গরুটি বিক্রি করাও জরুরি।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত হাটবাজার–নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উপায়ে গবাদিপশু বিক্রির বিষয়টিতে জোর দিতে হবে। অনলাইনে বেচাকেনার ধারণা ও সুযোগ প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, এ বছর প্রস্তুত মোট গবাদিপশুর ৩০ শতাংশই ইতিমধ্যে অনলাইন ও সরাসরি খামার থেকে বিক্রি হয়ে গেছে। বড় বড় খামারের মালিকেরা কিছু পশু ঢাকায় নিয়ে গেছেন। পশুহাট চালুর পর গরু-ছাগল হাটে তুলতে পারলে ক্রেতার অভাব হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন