বিজ্ঞাপন

আদালতের নাজির মো. রকিবুল হাসান বলেন, ওই এলাকায় আইনজীবী  সমিতির লাইব্রেরি করার জন্য ১৯২৯ সালে সেক্রেটারি অব দা কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ১৯ দশমিক ৪৮ শতক জমি শর্তসাপেক্ষে আইনজীবী সমিতিকে ব্যবহারের অনুমিতি দেয়। তবে সমিতি এখন ওই এলাকার প্রায় ১ দশমিক ৭৩৬ একর জমি দাবি করছে। পুরাতন আদালত এলাকায় আইনজীবী সমিতি অতিরিক্তি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দখল করে কাটাতার দিয়ে ঘিরে রেখেছে। তাঁরা তাদের নির্মিত ও নির্মাণাধীন ভবনগুলো বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিচ্ছে, যা অঙ্গিকারনামার পরিপন্থী। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়কে জানানো হলে  বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জেলা জজ নারী ও শিশু আদালতের বিচারককে প্রধান করে গত ৩১ আগস্ট ৫ সদস্যের একটি কমিটি করে দেন। কিন্তু সমিতি বিষয়টির সুরাহা হওয়ার আগেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে।

নতুন আদালত চত্বরেও দখলের অভিযোগ

পুরাতন আদালত এলাকার মতো শহরের খারদ্বার ও সোনাতলা মৌজায় নির্মিত নতুন আদালত এলাকায়ও বিচার বিভাগের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে। জেলায় বর্তমানে আইনজীবী সমিতির চারটি ভবন রয়েছে। পুরাতন ও নতুন আদালত এলাকা মিলিয়ে যার মাত্র দুটি বৈধ জায়গায় রয়েছে বলে জানিয়েছে জজশিপ। এর বাইরে আইনজীবী সহকারীদের নামেও নতুন আদালত এলাকায় সরকারি জমিতে ভবন করা হয়েছে।

এসব ভবন উচ্ছেদের জন্য ১৬ বছর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার লিখিতভাবে বলা হলেও তা উচ্ছেদ হয়নি। ২০০৪ সালে ২১ জুন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসককে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আমিনুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা জজ পুরাতন আদালতের সাক্ষীঘরের সামনের কিছু ফাঁকা জায়গা (যেটি নিয়ে বর্তমানে দ্বন্দ্ব চলছে) এবং নতুন আদালত ভবনের সেপটিক ট্যাংকির উপরিভাগে অবৈধভাবে দখলকারীদের উচ্ছেদের কথা বলা হয়। উচ্ছেদ না হওয়ায় ওই বছরের ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয় থেকে আবারও জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে দশমিক ০৩০৭ একর ফাঁকা জায়গা জেলা জজকে বুঝিতে দিতে বলা হয়।

পুরাতন আদালত এলাকার মতো শহরের খারদ্বার ও সোনাতলা মৌজায় নির্মিত নতুন আদালত এলাকায়ও বিচার বিভাগের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে।
default-image

সরেজমিনে দেখা দেছে, নতুন আদালত ভবনের পাশে আইনজীবী সমিতির অনুমোদিত ভবনের পাশে আরও একটি বহুতল ভবনের নির্মাণের কাজ চলছে। অন্য ভবন বাণিজ্যিক উদ্দেশে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। যদিও বিচার বিভাগের নথি বলছে, আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরির জন্য আইনজীবীদের দেওয়া জমি বিচার বিভাগ চাইলে তা ছয় মাসের ভেতরে ছেড়ে দিতে হবে। তাদের ভবন বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার না করাসহ বেশ কিছু শর্ত রয়েছে।

পাল্টা অভিযোগ আইনজীবী সমিতির

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত ৪ অক্টোবর রাতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আইনজীবী সমিতি। সেখানে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাপ হোসেন অভিযোগ করেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে জজশিপের নায়েব নাজির মিজানুর রহমানসহ কতিপয় কর্মচারী শতাধিক ‘অজ্ঞাত সন্ত্রাসী’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে নির্মাণাধীন ভবন এলাকায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় পরদিন সকালে সমিতি জরুরি সাধারণ সভা করে জেলা জজকে স্মারকলিপি দেয়।

জায়গা দখলের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একে আজাদ ফিরোজ বলেন, ‘ওই জমি আইনজীবী সমিতির। আমরা জায়গা দখল করেছি, বিষয়টি তা না। ১৮৭৩ সাল থেকে এখানে বার লাইব্রেরি।’ তবে বিরোধপূর্ণ ওই জমি আইনজীবী সমিতির কি না জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। তবে কমিটির সিদ্ধান্তের আগে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জজশিপের সদ্য সাবেক নায়েব নাজির মিজানুর রহমান বিষয়টি কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন