default-image

ভোলায় ৫০ শয্যার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে। গত এক যুগে ৫০ শয্যার লোকবলের অনুমোদন হয়নি। এখানে চিকিৎসকের পদ নয়টি। অথচ কাজ করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ মাত্র দুজন।

১৬টি পদের মধ্যে নার্স আছেন ৫ জন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ৮৪ জনের মধ্যে ৪২টি পদ খালি। হাসপাতালে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় না। সাধারণ এক্স-রে যন্ত্র পর্যন্ত নেই। কোনো টেকনিশিয়ান নেই। নেই কোনো ফার্মাসিস্ট।

‘সংকট’ ও ‘নেই’–এর বৃত্তে আবদ্ধ মনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ হাসপাতালটি উপজেলার দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসা। এখানে কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল নেই। ইউনিয়ন পর্যায়েও কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র নেই। আছে শুধু নয়টি কমিউনিটি ক্লিনিক। উপজেলার বাইরে কাউকে চিকিৎসা নিতে হলে কয়েক ঘণ্টা মেঘনা-তেঁতুলিয়া পার হয়ে ভোলা, বরিশাল ও ঢাকায় যেতে হয়।

৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগী আছে ১০ জন। নারী ওয়ার্ডে দুজন। আর শিশু ওয়ার্ডে বয়োবৃদ্ধ-শিশু মিলিয়ে আরও আটজন। হাসপাতালের তথ্যমতে, আরও রোগী ভর্তি হতে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরে অন্য হাসপাতালে যান। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী সেবা নেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে পাঁচজন নার্স রয়েছেন। তিনটি পালায় তাঁরা কাজ করেন। প্রতি পালায় এক-দুজনের বেশি নার্স থাকেন না।

নারী ওয়ার্ডে কথা হয় ৩ ফেব্রুয়ারি ভর্তি হওয়া রোগী হাজিরহাটের রোজিনা বেগম ও রানু বেগমের সঙ্গে। তাঁরা জানান, দরকারের সময় চিকিৎসকের দেখা মেলে না। দিন-রাতে চিকিৎসক একবারই আসেন। ওষুধও পাওয়া যায় না।

শিশু ওয়ার্ডের ঝরনা বেগম (২৪) আট মাসের শিশুসন্তান নিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন। শিশুটির শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা ও কাশি। পাঁচ দিনেও শিশুটির তেমন উন্নতি হয়নি। ঝরনা বললেন, ‘শুধু বেডটাই পাওয়া গেছে। আর কোনো সেবা নেই।’

চরফ্যাশন উপজেলা থেকে মাছ ধরতে এসে মনপুরার মেঘনা নদীতে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন মো. সোহাগ (২৬)। বুকে ব্যথা নিয়ে শুয়ে আছেন। ওষুধ খাচ্ছেন, কিন্তু ব্যথা কমছে না। মো. সোহাগ বলেন, ‘ব্যথা একটু কমলে ঢাকা যাব।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতে তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। একটি জেনারেটর আছে। কিন্তু সেটির ক্ষমতা কম। চাহিদা মেটে না। তেলের খরচ বাবদ বরাদ্দ সামান্য। দুই বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) দেওয়া হয়েছিল। এক মাস পরেই সেটি বিকল হয়ে যায়।

২০২০ সালের অক্টোবরের পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটি শূন্য হয়। কয়েক মাস ফাঁকা থাকার পরে গত ৮ জানুয়ারি যোগদান করেছেন নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেজওয়ানুর আলম। তিনি বলেন, তিনি কিছুদিন আগে হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। এসে দেখেন কিছুই নেই। অনেক বিপদে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট। ঢাকা থেকে তথ্য চায়। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তথ্য দেওয়ার মতো কেউ নেই। দক্ষ লোকবলও নেই। মাঠপর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁদের ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন