বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পারিবারিক সিদ্ধান্তে জুনায়েদের সঙ্গে রিমার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর জুনায়েদ সৌদি আরবে চলে যান। গত বছর করোনা মহামারি শুরুর কয়েক মাস পর দেশে আসেন। এর পর থেকে দেশেই রয়েছেন তিনি। প্রায়ই মধ্যরাত একটা বা দুইটার দিকে বাড়ি ফিরতেন জুনায়েদ। কারণ জানতে চাইলেই জুনায়েদ ক্রুদ্ধ হতেন এবং স্ত্রী রিমাকে চড়থাপ্পড়সহ মারধর করতেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন তিন-চারবার সালিসেও বসেন। গত রোববারও রাত একটা থেকে দেড়টার দিকে বাড়ি ফেরেন জুনায়েদ। ওই দিনও কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করেন জুনায়েদ। রাতেই জুনায়েদের বাবা শাহজাহানের মুঠোফোন দিয়ে রিমা ঘটনাটি তাঁর বড় ভাই কেফায়েত উল্লাহকে জানান।

প্রায়ই মধ্যরাত একটা বা দুইটার দিকে বাড়ি ফিরতেন জুনায়েদ। কারণ জানতে চাইলেই জুনায়েদ ক্রুদ্ধ হতেন এবং স্ত্রী রিমাকে চড়থাপ্পড়সহ মারধর করতেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন তিন-চারবার সালিসেও বসেন।

পরদিন সোমবার ভোরে চাচা মজনু মিয়াকে বোনের শ্বশুরবাড়িতে পাঠান কেফায়েত উল্লাহ। রিমার চাচা মজনু ও জুনায়েদের চাচাতো ভাই নূর আলিম বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। সে সময় জুনায়েদ আর এমন করবেন না বলে জানান। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে কেফায়েতকে রিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুঠোফোনে জানান। রিমার বাবার বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিমাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় রিমার শ্বশুর শাহজাহান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই জুনায়েদ, তাঁর বাবা শাহজাহানসহ বাকিরা পলাতক।

রিমার লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সুলায়মান মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গলার ভেতরে কিছু রক্তক্ষরণ, কিছুটা আঘাতের চিহ্ন ও শ্বাসরোধের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত বলতে পারবেন।

রিমার বড় ভাই কেফায়েত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিয়ের পাঁচ-ছয় মাস পর থেকে জুনায়েদ আমার বোনকে নির্যাতন শুরু করে। কিছু বললেই বোনকে চড়থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারত। দুই পরিবারই বিষয়টি নিয়ে তিন-চারবার সালিসেও বসেছে। রোববার রাতে বোনের শ্বশুরই আমাকে ফোন করেন। তাঁরা জুনায়েদকে আবার বিয়ে করাবেন বলেও হুমকি দেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার বোনের গলায় আত্মহত্যার কোনো চিহ্ন নেই। জুনায়েদ ও তাঁর পরিবারের লোকজন বোনকে নির্যাতন করেই হত্যা করেছেন।’

রিমার স্বামী জুনায়েদ আহমেদ ও শ্বশুর শাহজাহান মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মো. হাসান প্রথম আলোকে বলেন, নিহতের থুতনিতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন