default-image

করোনা মহামারির প্রকোপ ঠেকাতে দেশব্যাপী ‘সর্বাত্মক লকডাউন’সহ জনসমাগমের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আওয়ালিয়া বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে কর্মসূচি পালন করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। মানববন্ধনে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে হেফাজত নেতাদের মিথ্যাচার ও কটূক্তির প্রতিবাদ জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

লকডাউনের মধ্যে এ ধরনের কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক ভূঁইয়া জানান, কোনো জায়গায় সমাবেশ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।

প্রতিবাদ সভায় পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই মাস্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ভূঁইয়া। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা, দপ্তর সম্পাদক রাজ্জাক ফকির, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মাহবুব হোসাইন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরজুড়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতা চালানো হয়। হেফাজতের ব্যাপক সহিংসতার পর জেলা আওয়ামী লীগ ২৯ মার্চ, ছাত্রলীগ ৯ এপ্রিল, যুবলীগ ১১ এপ্রিল জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এসব সংবাদ সম্মেলনে সহিংসতার জন্য হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের দায়ী করে। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চলছে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের বাইরে এত দিন কোনো প্রতিবাদ মিছিলও করেনি জেলা আওয়ামী লীগ।

এদিকে আজকের কর্মসূচির বিষয়ে পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই মাস্টার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

লকডাউনের মধ্যে এ ধরনের কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক ভূঁইয়া জানান, কোনো জায়গায় সমাবেশ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।

আউলিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কমল কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের থেকে কেউ অনুমতি নেননি। প্রতিবাদ সমাবেশ শুরুর পর বিষয়টি জানতে পারি। পরে তাঁদের সংক্ষিপ্ত করে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি তাড়াতাড়ি শেষ করার কথা বলেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন