বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ নভেম্বর ডোমসার ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজগর আলী খান। তিনি রোববার তাঁর সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতে চাইলে পরাজিত সদস্য প্রার্থী মতিউর রহমান ছৈয়ালের সমর্থকেরা বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে চিতলিয়া এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে বেলা দুইটার দিকে চিতলিয়া ইটভাটার কাছে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দুই পক্ষের ৪০ ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের শরীরে শটগানের গুলি লাগে। আহত ব্যক্তিদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে আজগর আলীর সমর্থকদের হাসপাতাল থেকে মতিউর রহমানের সমর্থকেরা বের করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুজন দেওয়াল গ্রামের আনিছ কোতোয়ালকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। হাসপালে এলে মতি ছৈয়ালের লোকজন আমাকে বের করে দেয়। বাধ্য হয়ে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষে আহত ২৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে শটগানের গুলি, ককটেলের স্প্লিন্টার ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত ব্যক্তি আছেন। একজনের অবস্থা একটু জটিল হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে মতিউর রহমান ছৈয়াল বলেন, ‘আজগর খান বিজয়ী হয়েই আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন।’

আজগর আলী খান বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালে তাঁরা আমার সমর্থকদের মারধর করেছে। এখন নির্বাচন শেষ, কিন্তু আমাদের এলাকায় যেতে দিচ্ছিল না। তাই জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে জড়ো হয়েছিল। তারা সেখানে হামলা করেছে।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, বিজয়ী ও পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকেরা জড়ো হয়েছে জেনে পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারপরও তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ও আগ্নেয়াস্ত্র শটগান ব্যবহারের তথ্য পেয়েছেন। সত্যতা যাচাই করে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন