বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সৈয়দ জামসেদ শাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহার মালদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম খাদেম ও আবদুল হান্নান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম, যুবলীগ নেতা মো. মনির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. মনির হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ছাত্তার একজন মুক্তিযোদ্ধা। আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজের নৈশপ্রহরী হিসেবে তিনি চাকরি করতেন। তাঁর বসবাসের কোনো জায়গা ছিল না। প্রায় ৩৫ বছর আগে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এম মো. ইছহাক (বীর প্রতীক) ছাত্তারকে পরিবার নিয়ে কলেজের মালিকানাধীন জায়গায় বসবাসের জন্য জায়গা দেন। তিনি সেখানে ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ভেন্ডার একজন ভূমিদস্যু। সম্প্রতি রফিকুল ও তাঁর সহযোগীরা ষড়যন্ত্র করে ছাত্তারকে বাড়ির ভাড়াটিয়া বানিয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া বকেয়া আছে বলে দাবি করেন। তাঁরা ছাত্তার ও তাঁর দুই ছেলেকে আসামি করে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা করেন। ২ ডিসেম্বর অসুস্থ শরীর নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে যান এই প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আদালত দুই ছেলেকে জামিন দিয়ে ছাত্তারকে কারাগারে পাঠান।

বক্তারা বলেন, ‘বিজয়ের মাসে ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তারকে কারাগারে আটকে রাখা মানে হলো জাতিকে কলঙ্কিত করা। আমরা এ ঘটনায় দুঃখিত ও ব্যথিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাঁরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধার নিঃশর্ত মুক্তির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কারাগারে পাঠানো রফিকুলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।’

জয়নাল আবেদীন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার যে জায়গাটিতে বসবাস করেন, সেটি আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজের জায়গা। কলেজ থেকে তাঁকে থাকার জন্য দেওয়া হয়েছিল। একটি ভূমিদুস্য চক্র জালিয়াতি করে জায়গাটি গ্রাস করার অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁকে উচ্ছেদ করতে মিথ্যা মামলা করেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তারের স্ত্রী হনুফা বেগম বলেন, ‘রফিকুলের সাজানো মিথ্যা মামলায় আমার অসুস্থ স্বামী এখন কারাগারে। সরকারের কাছে আমি ন্যায়বিচার চাই।’
তবে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রয়সূত্রে আমি ওই ৩ শতক জায়গার মালিক। লিখিত চুক্তিপত্রে ছাত্তার আমার ভাড়াটিয়া। বছরখানেক ঠিকমতো ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু বিগত ২০০৭ সাল থেকে দেই, দিচ্ছি করে টালবাহানা করে ভাড়া দিচ্ছেন না। তাই আমি আদালতে মামলা করেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন