বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেনজির বলছিলেন, ‘অন্য দুই ভাইও দেশে ফিরে এসেছে। সবাই মিলে আমরা এখন হাসানপুরেই থাকি। অন্য দুই ভাইও মাছ চাষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।’ বেনজিরের পুকুরের আয়তন প্রায় ৭০০ শতক। সরকারি ওই জলাশয় বছরে প্রায় চার লাখ টাকায় তিনি পাঁচ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। সঙ্গে আলাউদ্দীন নামের তাঁর একজন স্বজন অংশীদার হিসেবে আছেন। ওই স্বজনের আগে পাবদা চাষের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁদের মৎস্য খামারে চারজন স্থায়ী কর্মী আছেন। অস্থায়ীভাবে প্রতিদিন আরও দু-তিনজন কাজ করেন।

২৩ অক্টোবর এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাছ ধরেছেন বেনজির। সকাল থেকে পুকুরের আশপাশ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাছ ধরা দেখতে গ্রামের মানুষের পাশাপাশি হাজির হন উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা। ভারতে পাবদা মাছ রপ্তানিকারকেরা সেদিন তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকার মাছ কিনেছেন।

শুরুর কথা জানাতে গিয়ে বেনজির বলছিলেন, ‘আমি আগে জীবনে কখনো কোনো ধরনের মাছ চাষ করিনি। তবে হাসানপুর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ হয়ে থাকে। আর এখানকার বেশির ভাগ মানুষ চিংড়ি ও কার্পজাতীয় মাছের চাষ করেন। আমার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রমী কিছু করার। উপজেলা মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করার পর তাঁরা পাবদা চাষের পরামর্শ এবং সেই মোতাবেক চার দিনের প্রশিক্ষণও দেন। মৎস্য দপ্তরের পরামর্শে পাবদার সঙ্গে নানা প্রজাতির কার্পও চাষ হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ৬ মাসে ২২ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ১ দিনেই ১৭ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। আরও ৫০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’

ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘করোনাকালে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য দপ্তর বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়। বিদেশফেরত বেনজির মাছ চাষের আগ্রহের কথা জানালে তাঁকে

পাবদা চাষের পরামর্শ দিই। সঙ্গে তাঁর একজন স্বজন, যাঁর আগে পাবদা চাষের অভিজ্ঞতা ছিল, তাঁর সঙ্গে যুক্ত করে দিই। ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণসহ বেনজিরকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁরা ব্যাপক সফল।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন