বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
খুব কম সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করা হবে। সেখানেই নতুন ভবন নির্মিত হবে।
রিয়াজুল হক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বাউফল

১৯৯৩ সাল থেকে বিদ্যালয়ের ভবন ছিল ইন্দ্রকুল মৌজার ১০৭০ নম্বর খতিয়ানের ৪৯৬১ নম্বর দাগের ও ৮০৩ নম্বর খতিয়ানের ৪৯৬০ নম্বর দাগের মোট ১৪ শতাংশ জমির ওপর। যা অন্য ব্যক্তিদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌখিকভাবে ওই জমি দান করেছিলেন জমির মালিকেরা।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০১৯-২০ অর্থবছরে একই জায়গায় নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। দেড় বছর আগে ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হয়। জানা যায়, ওই জমি বিদ্যালয়ের নয়। পরে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে জানান। চলতি বছরের ২১ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিচুর রহমান সরেজমিন মাপজোখ করে দেখেন, বিদ্যালয়ের জমির পাঁচ দাতা সদস্যের অংশীদারেরা দখল করে পাকা ভবন ও বিপণিবিতান নির্মাণ এবং পুকুর কেটে দখল করে রেখেছেন। পরে বিদ্যালয়ের জমির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা স্থাপন করে দেন। তবে জমির দখলদারেরা ওই লাল নিশান সরিয়ে ফেলেন।

বিদ্যালয়ের জমিতে বসতঘর ও বিপণিবিতান নির্মাণ করেছেন দাতা সদস্য বেল্লাল হোসেন খানের ছেলে মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কবলাকৃত সম্পত্তিতে বসতঘর ও বিপণিবিতান নির্মাণ করেছি। বিদ্যালয়ের জমি বুঝিয়ে দিতে আমার আপত্তি নেই। তবে অন্য দাতা সদস্যকে একত্র করে জমি বুঝিয়ে দিতে বলেন।’

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর সারা দেশে ১২ সেপ্টেম্বর পাঠদান শুরু হয়েছে। বর্তমানে সমস্যায় পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পাঠদানের জন্য কোনো ঘর কিংবা জায়গা পাচ্ছিলেন না। তখন ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন তাঁর বিপণিবিতান ও ক্লাবের ছাদ ব্যবহারের অনুমতি দেন। শিক্ষকেরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ওই ছাদে টিনশেড কক্ষ তৈরি করে পাঠদান শুরু করেন।

এ সমস্যার সমাধানে বিদ্যালয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান আহম্মেদ বলেন, বিপণিবিতানের ছাদে ক্লাস হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানকে এই বিদ্যালয়ে পড়াতে চাইবেন না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ে জমিদাতাদের অংশীদারেরা জমি দখলে রাখায় নতুন ভবন নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত হবে এবং সেখানেই নতুন ভবন নির্মিত হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন