বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মো. ফারুক হোসেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গত ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ঘোষপুর ইউনিয়নে ফারুক হোসেনসহ পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ কারণে ফারুক হোসেনকে বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর পাশাপাশি দলীয় দুই প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিদ্রোহী দুই প্রার্থী হলেন ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মো. চান মিয়া (চশমা) ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. ইমরান হোসেন ওরফে নবাব (আনারস)।

দুই বিদ্রোহীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফারুক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষত সমস্যা করছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. ইমরান হোসেন। এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু লোক তাঁকে উৎসাহ জোগাচ্ছে। ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে।

শুধু ঘোষপুর ইউনিয়নই নয়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শুধু সাতৈর ইউনিয়নে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

শুধু ঘোষপুর ইউনিয়নই নয়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শুধু সাতৈর ইউনিয়নে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ঘোষপুরসহ বাকি নয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ৯ জন, কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ১৫ জন।

১৫ জনের মধ্যে দাদপুর ও ময়নায় ৩ জন করে, ঘোষপুর ও রূপপাতে ২ জন করে এবং চতুল, পরমেশ্বরদী, শেখর, সদর ও গুণবাহায় ১ জন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
দাদপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদুর রহমান। তিনিসহ ওই ইউনিয়নে মোট প্রার্থী সাত। এর মধ্যে তিনজনই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামীম মোল্লা (চশমা), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন (ঘোড়া) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন-অর-রশীদ (মোটরসাইকেল)।

বিদ্রোহীদের কারণে সমস্যায় আছেন বলে জানালেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ সাজ্জাদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলার নেতারাও বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ সমর্থন পাচ্ছি না। নেতারা মুখে এককথা বলছেন, আবার গোপনে কাজ করছেন অন্যের পক্ষে।
বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে দাদপুর ইউনিয়নের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামীম মোল্লা বলেন, ‘আট বছর বয়স থেকে আওয়ামী লীগ পছন্দ করি। সঠিকভাবে যাচাই–বাছাই করে মনোনয়ন দিলে আফসোস ছিল না। কিন্তু তা করা হয়নি।’

ময়না ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মো. সেলিম (চশমা), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুজ্জামান (অটোরিকশা) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সাইফুজ্জামান জিন্নাহ (মোটরসাইকেল)। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা মৎস্যজীবী লীগের সদস্য পলাশ বিশ্বাস।

পলাশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী, আমি কাউকে পরোয়া করি না। কে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াল, কে দাঁড়াল না, তা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। আমি আমার মতো কাজ করে যাচ্ছি।’

রূপাপাত ইউনিয়নে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মহব্বত আলী। বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেমায়েত হোসেন (মোটরসাইকেল) ও ইউপি যুবলীগের সহসভাপতি মো. রবিউল মোল্লা (চশমা)। চতুলে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার মো. আবুল বাশার। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মহম্মদ রফিকুল ইসলাম (চশমা)।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. সোলাইমান মোল্লা। এ ইউপিতে বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মান্নান মাতুব্বর (ঘোড়া)। শেখর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কামাল আহমেদ আর বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ (মোটরসাইকেল)। গুনবহা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম। এখানে বিদ্রোহী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মু আমিনুল ইসলাম (মোটরসাইকেল)।

সদর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবদুল হক শেখ (মোটরসাইকেল)। এখানে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব মোল্লা।

ওহাব মোল্লা বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোট চাইছেন। তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য কিছুটা তো সমস্যা হবেই।

বিদ্রোহীদের প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়কে কি না, তা জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীকুল মীরদাহ বলেন, বিদ্রোহী সদস্যদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা তা আমলে নেননি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে শিগগিরই বহিষ্কার করা হবে।
২৬ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চতুর্থ ধাপে বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫৬, সাধারণ সদস্য পদে ৩৫১ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১১৭ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন