বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির ১৫ জন, জামায়াতের ৪ জন ও জাতীয় পার্টির ১ জন নেতা-কর্মী জয় পেয়েছেন। নির্বাচনে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের ২ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর নির্দলীয় ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবার জয় পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, অনেক ইউপিতে দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাই দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট ভাগাভাগি করায় অন্য দলের নেতা-কর্মীরা সহজে জয় পেয়েছেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটের যোগফল বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অধিকাংশ ইউপিতে ভরাডুবি হয়েছে। এ ছাড়া সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল এবং মাঠপর্যায়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিভেদের কারণেও অনেক ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটাররা আঞ্চলিকতা, গোষ্ঠী, গ্রাম—এসব বিষয় বিবেচনায় রাখেন। এখানে প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থানকেই ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে কোন দলের প্রার্থী কতজন জিতলেন, তা বিবেচনা করে কোনো দলের জনপ্রিয়তা বিবেচনা করতে চাইলে ভুল হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীদের সবার ভোট একত্র করলে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারই বেশি আছেন।

দুই জেলায় আওয়ামী লীগের ফল খারাপ: সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার ১৮টি ইউপিতে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে জকিগঞ্জের ২টি ইউপিতে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়নি। বাকি ১৬টি ইউপির মধ্যে মাত্র ৬টিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এখানে দলটির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

ফলাফল ঘেঁটে দেখা গেছে, সিলেটে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের দুজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির দুজন, জামায়াতের তিনজন এবং জাপার একজন প্রার্থী জয়ী হন।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার ১৮টি ইউপিতে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পেয়েছে ৭ ইউপিতে। দলের ৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এখানে বিএনপির ২ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হন। এর বাইরে আরও ৪ জন নির্দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন। যদিও এর মধ্যে আবার তিনজন স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

হবিগঞ্জে বিএনপি এগিয়ে: চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার ২১টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ইউপিতে জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মাত্র ৬টিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিদ্রোহী ৬ জন নেতা-কর্মী জয়ী হয়েছেন। এর বাইরে জামায়াতের ১ জন এবং নির্দলীয় আরেকজন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হন।

মৌলভীবাজারে ভালো ফল আ.লীগের: কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের ১৮টি ইউপিতে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ১০টি ইউপিতে জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া দলটির আরও ৪ জন বিদ্রোহী জয় পেয়েছেন। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ৪ জন জয়ী হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন