বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তানোরের কলমা ইউনিয়নের আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের আশঙ্কা করা হয়েছিল। ওই কেন্দ্রের একজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না আসার জন্য বলা হয়েছিল। এ জন্য সকালে তাঁরা একটু দেরি করে এসেছেন। খবর নিয়ে দেখেন, কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারপর তিনি ভোট দিতে এসেছেন। বেলা সোয়া একটায় ওই কেন্দ্রে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ভোটের সুদিন ফিরে এল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভোটার বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না আসার জন্য বলা হয়েছিল। এ জন্য সকালে তাঁরা একটু দেরি করে এসেছেন।
default-image

ইউনিয়নের দরগাডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ৩ নভেম্বর সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থীকে ‘বিড়াল’ বানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন। আজ সকালে ওই বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নারী ও পুরুষের পৃথক দুটি বুথে দেখা যায়, একেবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। সেখানে বিদ্রোহী ও নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বেলা দুইটায় প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১টার দিকে তাঁর কেন্দ্রে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেল পৌনে পাঁচটায় মুঠোফোনে আবার কথা হলে জানান, পরিবেশ শান্তিপূর্ণই আছে। ভোট পড়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

তানোরের চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের গাগরন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল সোয়া ৯টার মধ্যেই ১ হাজার ১০০ ভোটের মধ্যে ৩২০ ভোট পড়ে। সেখানে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে উপচে পড়া ভিড় ছিল। সন্ধ্যা ছয়টায় যোগাযোগ করা হলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

default-image

গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের আলোকছত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সবচেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। সেখানে ২২টি দোকান বসেছিল। তার অর্ধেকই মিষ্টির দোকান। এক দোকানেই ছিল ২০ পদের মিষ্টি। দোকানে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা বাবুলাল মুর্মুর সঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। মানুষ হেসেখেলে ভোট দেন। ভোটের দিন কেউ কোনো কাজ করেন না। কেন্দ্রের বাইরে এসে আড্ডা দেন। দোকানে নিজে মিষ্টি খান, অন্যদের খাওয়ান।’ সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই উপজেলার ১৫টি ইউপির ভোট গণনা চলছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠান তাঁদের প্রতিশ্রুতি ছিল—সেটাই হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন