default-image

মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন, সমর্থকদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ তাঁর কোনো অভিযোগই আমলে নিচ্ছে না। ফলে এখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্র জানায়, কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে চামচ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সোহেল রানা। তিনি গত ১২ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চারটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রথম ২৪ জানুয়ারি তিনি একত্রে দুটি এবং ৩১ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি আরও দুটি অভিযোগ করেন।

মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম হানিফের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন, নির্বাচনী প্রচারণার মাইক ভাঙচুর এবং কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিরউদ্দিন মৃধার পক্ষপাতমূলক আচরণ করার বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়াও অভিযোগের প্রতিটি অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দিয়েছি। ভেবেছিলাম নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখবে। কিন্তু তারা আমার কোনো অভিযোগ আমলে নেয়নি। চারটি অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাইনি। এখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। কোনো নেতা–কর্মীরাই আমার মাঠে কাজ করতে পারছে না। আমার প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পোস্টার লাগালেই রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এমন পরিবেশ থাকলে কী করে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’

সোহেল রানা আরও বলেন, ‘আচরণবিধিতে আছে, নির্বাচনী এলাকায় এমপিরা আসতে পারবেন না। অথচ শুক্রবার মাদারীপুর-৩ আসনের সাংসদ আবদুস সোবহান গোলাপ এলাকায় এসেছেন। তিনি এসে নির্বাচনকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী সোহেল রানার তিনটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। এর একটি হলো ওসির নিরপেক্ষ আচরণ না করার। বিষয়টি আমি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। পরে পুলিশ তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পায়নি। আমি নিজেও নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ওসির ত্রুটি পাইনি। তবে ওসিকে সতর্ক করে কমিশন থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনের আচারণবিধি দেখার কাজ আমার নয়। এর জন্য তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা আছে। প্রার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেটদের আমি জানিয়েছি। তাঁদের উচিত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আচরণবিধি ভঙ্গ করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া। পরে কমিশনে এসব বিষয় রিপোর্ট করা। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন পর্যন্ত আমার কাছে একটিও রিপোর্ট করেননি।’

নির্বাচনী এলাকায় এমপির উপস্থিতির বিষয় জানতে চাইলে মো. মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন এমপিরা এলাকায় থাকতে পারবেন না। তবে কালকিনি এমপির বাড়ি পৌরসভার বাইরে। তিনি তাঁর বাড়িতে এসেছেন। আমরা তাঁকে স্পষ্টভাবে নির্বাচনের নিয়ম মেনে চলতে বলে দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন