বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে শিবগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউপি নির্বাচন। বিহার ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মহিদুল ইসলাম। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিহার ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা লেগেই আছে। নির্বাচনী উত্তাপে ঘটেছে পাল্টাপাল্টি হামলা ও মামলার ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিহার বন্দরে মতিউর রহমানের দুই কর্মী ভাসুবিহারের সাজু (৩৩) ও ইউসুফ (২২) মোটরসাইকেল প্রতীকের পোস্টার লাগাতে গেলে নৌকার প্রার্থীরা ধারালো অস্ত্র হাতে হামলা করেন। এ সময় সাজু ছরিকাহত এবং ইউসুফ রামদার কোপে আহত হন। এ নিয়ে বিহার বন্দরে দুই পক্ষে উত্তেজনা তৈরি হয়।

রেজাউল ইসলাম আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে নৌকার প্রার্থী মহিদুল ইসলাম চিকিৎসকদের সামনেই তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাহত করেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী মতিউর রহমান

মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, বিহার বন্দরে এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রোববার দুপুরেও বিহার বন্দরে ২০-২২ জন পুলিশ মোতায়েন ছিলেন। নৌকার সমর্থকেরা পুলিশের সামনেই একজোট হয়ে মোটরসাইকেলের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। তাঁরা বিহার সোনারপাড়ার শাওন, বিহার পূর্বপাড়ার সোহেল, মোন্নাপাড়ার বাসিন্দা ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য রায়হান মিয়া, বাবু মিয়া, হারুন, বেলাল ও মোফাজ্জলের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁরা রায়হানের ছোট ভাই রবিউল ইসলামের দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কর্তন করেন।

যুবলীগ নেতা মতিউর আরও অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেলের কর্মী ও বিহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে নৌকার প্রার্থী মহিদুল ইসলাম চিকিৎসকদের সামনেই তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাহত করেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সেই হামলার দৃশ্য রয়েছে।

মোটরসাইকেলের কর্মীরা বিনা উসকানিতে বিহার বন্দরে নৌকার কর্মী আবু সাঈদের (৫০) মুদিদোকানে হামলা-লুটপাট চালিয়ে তাঁকে ছুরিকাহত করেন। এ ঘটনার জেরে বিহার বন্দরে উত্তেজনা ছড়ায়।
নৌকার প্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিদুল ইসলাম

মতিউর রহমান আরও অভিযোগ করেন, হাত-পায়ের রগ কর্তনের শিকার রবিউল ইসলামের ভাই শিমুল মিয়াকে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ওই হত্যার ঘটনায় রবিউলের আরেক ভাই ও বিহার ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রায়হান মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই মামলার প্রধান আসামি নৌকার প্রার্থী মহিদুল ইসলাম। ওই হত্যা মামলার জেরেই আবু রায়হানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

তবে নৌকার প্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিশেষ সভা ছিল। তিনি সেই সভায় ছিলেন। তাঁর কর্মীদের আহত হওয়ার খবরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন। সেখানে রেজাউল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তিনি কাউকে ছুরিকাঘাত করেননি। মহিদুল আরও বলেন, মোটরসাইকেলের কর্মীরা বিনা উসকানিতে বিহার বন্দরে নৌকার কর্মী আবু সাঈদের (৫০) মুদিদোকানে হামলা-লুটপাট চালিয়ে তাঁকে ছুরিকাহত করেন। এ ঘটনার জেরে বিহার বন্দরে উত্তেজনা ছড়ায়। তবে নৌকার সমর্থকেরা কারও বাড়িঘরে হামলা করেছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই।

বিহার ইউপির পরিস্থিতি খুবই নাজুক। সেখানে সংঘাত-সহিংসতা লেগেই আছে।
সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, পুলিশ সুপার, বগুড়া

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রবিউলের হাত–পায়ের রগ কেটে গেছে কিনা তাঁরা নিশ্চিত নয়। রগ কাটলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা। তেমনটি হয়নি। রগ কাটা চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌকার সমর্থক আবু সাইদও আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর আগে গত বুধবার প্রচারণার প্রথম দিনেই বিহার বন্দরে নৌকার কর্মী–সমর্থকেরা মোটরসাইকেল প্রতীকের কার্যালয় ও সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় নৌকার ১৪ সমর্থককে আসামি করে যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান থানায় মামলা করেন।

এ ছাড়া ১২ অক্টোবর মতিউর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিদুল ইসলাম ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪০-৪৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন।

পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার অভিযোগ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ফোন ধরেননি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বিহার ইউপির পরিস্থিতি খুবই নাজুক। সেখানে সংঘাত-সহিংসতা লেগেই আছে। রোববার নতুন করে সংঘাতের বিষয়টি জানার পর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিবগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন