বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলায় দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বলা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ছয় ইউনিয়নেই প্রার্থী আছে। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির নেতা–কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

সদরের রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী হয়েছেন আহমেদ শাহরিয়ার। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ওরফে খোকন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের ছোট ভাই মনিরুজ্জামান।

সদরের চরকাউয়া ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকব।’ এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ওরফে ছবি। এখানে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মামুন সরদার হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

* বরিশাল সদর উপজেলায় দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বলা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। * আগৈলঝাড়া পাঁচটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন

চাঁনপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন হেলাল উদ্দিন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক এইচ এম জাহিদ। জাহিদ বলেন, ‘আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, মনোনয়ন না পেলেও প্রার্থী হব, তাই হয়েছি। তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে জনমত যাচাই না করেই ঘরে বসে নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান ওরফে মুন্না নৌকার প্রার্থী হওয়ায় এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুবেল হোসেন তালুকদার। তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি প্রয়াত ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হকের ভাতিজা। এই ইউনিয়নে বিএনপির কোনো নেতা প্রার্থী হননি। ইউনিয়ন বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ভোটে তাঁরা রুবেল তালুকদারের পাশেই থাকবেন।

চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপির সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম মতিউর রহমান। তবে এখানে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

চরমোনাই ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন চরমোনাইয়ের পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের ছোট ভাই সৈয়দ জিয়াউল করীম। এই ইউনিয়নে মাস্টার নুরুল ইসলাম নৌকার প্রার্থী হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আরেকটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। ভোটের এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি। চেষ্টা করছি, বুঝিয়ে সবাইকে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করাতে।’

জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এবার জেলার কোনো ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলায় পাঁচটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। তাঁরা হলেন রাজিহার ইউনিয়নে ইলিয়াস তালুকদার, বাকাল ইউনিয়নে বিপুল দাস, বাগধা ইউনিয়নে আমিনুল ইসলাম, গৈলা ইউনিয়নে শফিকুল হোসেন ও রত্নপুর ইউনিয়নে গোলাম মোস্তফা সরদার। এর আগে প্রথম ধাপে বরিশাল জেলার ৫০টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয় গত ১১ এপ্রিল। এর মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন