বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজীরহাট ফেরিঘাটে যানবাহনের চেয়ে যাত্রীর চাপই বেশি। আরিচা থেকে উত্তরাঞ্চলমুখী যে ফেরিগুলো কাজীরাটে আসছে, তাতে কিছুটা কম যানবাহন থাকলেও যাত্রী রয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। আবার ঠিক একইভাবে কাজীরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিগুলোতেও যানবাহন কিছুটা কম উঠলেও যাত্রী উঠছে অনেক বেশি। উভয়মুখী যাত্রীদের গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠতে দেখা যায়।

বেলা দুইটার দিকে কাজীরহাট ফেরিঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আশিকুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও তাঁর ছুটি নেই। ঈদের আগের দিনই তিনি বাড়ি এসেছিলেন। পরিকল্পনা করেছিলেন আগামী শনিবার ঢাকা যাওয়ার। কিন্তু শুক্রবার থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ শুরুর খবর পেয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য ফেরিঘাটে এসেছেন।

পাবনা শহরের বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, ‘ভাবছিলাম সরকার ঈদের পর মানুষকে দু-তিন দিন বাড়ির সবার সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ দেবে। কিন্তু তা না দিয়ে আগের ঘোষণাতেই সরকার অটল থাকল। তাই আজই ঢাকা ফিরে যাচ্ছি।’

কাজীরহাট ফেরিঘাটে যাত্রীদের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা ইজারাদারের প্রতিনিধি পল্লব হোসেন বলেন, ‘সকালের দিকে ঘাটে যাত্রীর চাপ তেমন ছিল না। কিন্তু দুপুর থেকে হঠাৎ করেই যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। ঢাকায় যাওয়ার জন্য যেমন প্রচুর যাত্রী আসছেন তেমনি ঢাকা থেকেও প্রচুর যাত্রী কাজীরহাটের দিকে আসছেন।’

কাজীরহাট লঞ্চঘাটে দেখা যায়, কাজীরহাট থেকে আরিচা এবং আরিচা থেকে কাজীরহাট উভয়মুখী লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি লঞ্চে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার চেয়ে অর্ধেক যাত্রী বহন করার কথা। কিন্তু লঞ্চগুলোতে পূর্ণ ধারণক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর কাজীরহাট ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক খালেদ মোশাররফ বলেন, ‘দুপুর ১২টার পর থেকেই যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে। তবে তা অস্বাভাবিক রকমের বেশি নয়। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী যাতে না ওঠে, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর দৃষ্টি রাখছি। এ জন্য আমরা নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী ওঠার পরেই লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলছি। অন্যান্য দিন বিকেল চারটায় শেষ লঞ্চ কাজীরহাট থেকে ছেড়ে গেলেও যাত্রীর চাপ ও আগামীকালের বিধিনিষেধের কারণে আজ সন্ধ্যা ছয়টা বা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ঘাটে লঞ্চ থাকবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন