বিজ্ঞাপন

এক পক্ষের নেতা সুলতান মাহমুদ বলেন, পরিমল চন্দ্র দাস ও আহমেদ শাহরিয়ার বাবুর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে সাধারণ শ্রমিকেরা মেনে নেননি। তাঁরা জোরপূর্বক টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিমল-বাবুর লোকজন টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে তাঁর (সুলতান) শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেন। এ সময় সদ্য গঠিত ওই কমিটির বাবুল, হান্নান মৃধা, শওকত খানসহ কয়েকজন মিলে হামলা করে পাঁচ শ্রমিককে আহত করেন।

বিবদমান এক পক্ষের নেতারা বলছেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসনকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তাঁরা। এ সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না করায় দুই টার্মিনালের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য গঠিত কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, দীর্ঘদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে বাস চলাচল শুরু হয়। শ্রমিকেরা সকালে যাত্রী তোলার কাজ করছিলেন। আকস্মিকভাবে সুলতান মাহমুদের লোকজন হামলা চালান। এতে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির মৃধাসহ পাঁচজন আহত হন। পরিমল চন্দ্র দাস গতকাল বলেছিলেন, তাঁরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করায় তাঁরা শুক্রবার সকাল থেকে আবার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন সকালে বলেন, হামলার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকেরা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসনকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তাঁরা। এ সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না করায় দুই টার্মিনালের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন ধর্মঘট কখন প্রত্যাহার হবে, সেটা আপাতত বলতে পারছেন না।

default-image

এর আগে কঠোর বিধিনিষেধে বন্ধ থাকার পর গতকাল বাস চলাচল শুরুর প্রথম দিন বরিশাল নগরের রূপাতলী বাস টার্মিনালে সকালে দুই দল শ্রমিকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এর জেরে গতকাল সকালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে বেলা আড়াইটার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হলেও বিবদমান একটি পক্ষ ঘোষণা দেয়, হামলার ঘটনায় অপর পক্ষের দায়ী ব্যক্তিদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে রূপাতলী বাস টার্মিনাল ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সব যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদে ঘরমুখী মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। আজ সকালে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় যাত্রী আল আমিনের সঙ্গে। স্ত্রী–সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকা থেকে ফিরেছেন। যাবেন বরগুনার বামনা উপজেলায়। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে শোনেন বাস চলাচল বন্ধ। আল আমিন বলেন, ‘সঙ্গে অনেক মালামাল, ছোট্ট বাচ্চা, স্ত্রী। ক্যামনে যে বাড়িতে যামু, দুর্ভোগে পড়ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন