বিধ্বস্ত ঘর নিয়ে দুশ্চিন্তায় মায়ারুন-মান্নান

সিলেট সদর উপজেলার দর্শা গ্রামের বাসিন্দা মান্নান আহমদ তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বন্যায় বিধ্বস্ত ঘরের সামনে। ছবিটি গতকাল রোববার তোলা
ছবি: প্রথম আলো

এক যুগ আগে মায়ারুন বেগমের (৪০) স্বামী মারা যান। এরপর গৃহপরিচারিকার কাজ করে চার সন্তানকে নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। ১৫ জুন বন্যার পানি ঢুকে পড়ে মায়ারুনের বসতভিটায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘরে বুকসমান পানি হয়ে যায়। সন্তানদের নিয়ে স্থানীয় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন। পানি নেমে গেলে গত শুক্রবার মায়ারুন বাড়িতে ফেরেন। তবে তাঁর ঘরটি বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে আছে।

গতকাল রোববার দুপুরে মায়ারুন বেগমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁর বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের দর্শা গ্রামে। মায়ারুন জানান, টিনের চাল আর বাঁশের বেড়ার ঘরটি আর আগের মতো নেই। বন্যার পানির ঢেউ লেগে তাঁর ঘরের পেছনের বেড়া পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। এখন বেড়ার বদলে ওই স্থানে নিজের পরনের পুরোনো কাপড় সাঁটিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে অনিরাপদে থাকছেন।

মায়ারুন বলেন, ‘ঘরে মেয়ে আছে। আমি পরের ঘরে কাম কইরা সংসার চালাই। পানি আইছে, কামকাজও বন্ধ অই গেছে। বড় কষ্টে আছি।’ তিনি জানান, বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়া ঘরটি সংস্কার করার মতো টাকা তাঁর হাতে নেই। তাই কবে নাগাদ নিজের ঘর মেরামত হবে, এ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত।

দর্শা গ্রামের মান্নান আহমদের (২৯) ঘরটিও বন্যার পানিতে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। মান্নান বলেন, তিনি সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকার একটি ওয়ার্কশপে চাকরি করেন। ঘর বুকসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। গত শুক্রবার বাড়িতে ফিরলেও টাকার অভাবে ঘরটি সংস্কার করতে পারছেন না। তাই প্রতিবেশীর এক দালানের বারান্দায় এখন সবাই থাকছেন। রান্নাঘরটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বাড়ির উঠোনে পর্দা টাঙিয়ে অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্নাবান্নার কাজ চলছে।

মান্নান আহমদ আরও বলেন, প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়া তিন সন্তান, স্ত্রী রহিমা আক্তার (২৪) আর মা তফুরা বেগমকে (৬০) নিয়ে তাঁর সংসার। হঠাৎ বন্যায় ঘরের অনেক জিনিস ভেসে গেছে। পুরো ঘরটি এমনভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি ভেঙে নতুন ঘর তৈরি করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। অথচ তাঁর কাছে কোনো টাকাই নেই। ফলে কবে নাগাদ ঘরটি মেরামত করতে পারবেন, সেটিও তিনি নিশ্চিত নন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৯৫৪টি। এর মধ্যে যাঁদের বাড়িঘর বেশি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাঁদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে কোনো সহায়তা করা যায় কি না, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।