বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঠাকুরগাঁওয়ের বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৯০ টাকার মসুর ডাল বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা, চিনি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, শর্ষের তেল ১৮০ টাকা থেকে ২১০ টাকা, জিরা ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, আটা ৩৫ থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় ও সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৬০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬২০–৬৫০ টাকা। বাড়তি এই খরচ মেটাতে গিয়ে সীমিত আয়ের অনেক মানুষ নানা উপায় বেছে নিয়েছেন।

কালীবাড়িতে বাজার করতে এসেছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মমিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সীমিত আয়ে আমার সংসার চলে। রমজানের আগেই সব জিনিসের দাম বেড়ে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ দামে আমার মতো মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কম করে জিনিস কিনছি।’

শহরের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন নরেশ রায়। তাঁর ছেলে-মেয়ে পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। নিজের সংসারের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সামান্য বেতন দিয়ে খুবই কষ্টে এত দিন সংসার চালিয়ে এসেছি। এখন আবার সব জিনিসের দাম বাড়তি। এ অবস্থায় সমাপনী পরীক্ষার্থী ছেলের টিউশনি কমিয়ে দিয়েছি। এটা না করলে জীবন চলবে কী করে?’

হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ার পর মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। বাজারে কম দামি মাছ ও সবজি কিনছেন পরিবারের জন্য। অনন্যোপায় না হলে দাওয়াত বাড়িতেও যাচ্ছেন না।

অন্যান্য পণ্যের মতো গ্যাস ও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রুবি আকতার। তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম তো বেড়েছেই। তার ওপর গ্যাস ও সয়াবিন তেলের দাম আকাশছোঁয়া। বাড়তি দামে সয়াবিন তেল কিনে খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিনা তেলে তরকারি রান্না শিখতে চাই। এটার সুযোগ থাকলে আমাকে একটু জানাবেন।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, সম্প্রতি চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন গড়পড়তা আয়ের মানুষেরা। তাঁর নিজের অবস্থাও অন্যদের মতোই বলে জানান তিনি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদি বলেন, অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মনিটরিং করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন