বিনা মূল্যের কার্ডে টাকা আদায়

টিসিবির কার্ড দেওয়ার আগে ২০০-২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই টাকা ইউপি সদস্যরা তুলেছেন।

টিসিবি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নে টিসিবির পণ্যের কার্ড দেওয়ার সময় ২০০-২৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যরা (মেম্বার) অবৈধভাবে নিম্ন আয়ের লোকজনের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

কোলকোন্দ ইউপির দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের পাঁচ ব্যক্তি এ অভিযোগ দিয়েছেন। এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য এই ইউপিতে ২ হাজার ৬৩৯ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু কার্ড দেওয়ার আগে ২০০-২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে অনেকের কাছ থেকে। ওই টাকা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফের নির্দেশে ইউপি সদস্যরা তুলেছেন। ওই টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। তবে কতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়নি।

গত সোমবার ওই কার্ড নিয়ে পীরেরহাট বাজারের বিতরণকেন্দ্রে টিসিবির পণ্য তুলতে গিয়ে কার্ডধারীরা টাকা নেওয়ার কথা আলোচনা করেন। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। অনেকে টাকা আদায়ের ঘটনায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তখন উপজেলা প্রশাসনের লোকজন তাঁদের শান্ত করেন। এ ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

মাস্টারপাড়া গ্রামের শান্তনা রানী বলেন, ‘হামরা কার্ড কি মাগনায় পাছি। কার্ড নেওয়ার সময় মেম্বার ২৫০ টাকা নেছে। এ্যালা মাল (টিসিবির পণ্য) নিবার আসিয়া এত ঝামলা ক্যান! গরিবের শান্তি একটেও নাই।’

দক্ষিণ কোলকোন্দ পূর্বপাড়া গ্রামের গোলাপী বেগম বলেন, ‘মোরোটে হামার এলাকার মিজান মেম্বার কার্ড দিবার সময় খরচের কথা কয়া ২০০ টাকা নিছে। টাকা ছাড়া কার্ড দিবার চাছলো না। বাইধ্য (বাধ্য) হয়া টাকা দিয়া কার্ড নিছুন।’

মাস্টারপাড়া গ্রামের কার্ডধারী অন্তত ২০ জনের অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ২০০-২৫০ টাকা করে নেওয়ার পর টিসিবির কার্ড দিয়েছেন। গ্রামের যাঁরা টাকা দিতে পারেননি, তাঁরা কার্ডও পাননি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, টিসিবি পণ্যের কার্ড দেওয়ার সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে সব ওয়ার্ডের মেম্বাররা কার্ডপ্রতি ২০০ টাকা করে তুলেছেন। এটা চৌকিদারি ট্যাক্স। এটা ঘুষ নয়। টাকাটা তাঁরা চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফ বলেন, ‘চৌকিদারি ট্যাক্স কেউ দেয় না। তাই টিসিবির কার্ড দিয়ে ট্যাক্স নিতে আমি বলেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কার্ড দিয়ে ট্যাক্স তোলা ঠিক হয়নি।’

ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সোহরাব আলী বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে ট্যাক্স নির্ধারণ কমিটি রয়েছে। রেজল্যুশন করে সেই ট্যাক্স তুলতে হয়। সরকারি বিধি মোতাবেক বার্ষিক টিনের চালার বাড়ির ট্যাক্স হবে ২০, টিনের বাড়ি ৪০ ও পাকাবাড়ির ৫০ টাকা। উপযুক্ত রসিদ দিয়ে সেই টাকা তুলতে হয়। কিন্তু গরিব মানুষের কাছে ২০০ বা ২৫০ টাকা করে নেওয়া কোনো ট্যাক্স আদায়ের আওতায় পড়ে? এই উদ্যোগকে নেতিবাচক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বলেন, চৌকিদারি ট্যাক্সের জন্য ২০০ টাকা কেন তোলা হলো, তা চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করতে হবে। তবে কার্ড দিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো লিখিত অভিযোগ তাঁর হাতে এখনো আসেনি।