গত সোমবার বিকেলে জবই বিলে গিয়ে প্রথম দর্শনে মনে হয় যেন হাঁসের খামার। কাছে যেতেই ভুল ভাঙে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়েই উড়াল দিচ্ছে পাখিগুলো। স্থানীয়রা এসব পাখিকে বালিহাঁস, সরালি ও পাতিসরালি বলে ডাকেন। পরিযায়ী পাখি ছাড়াও এই বিলে শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নিহাঁস, বকের দেখা মিলল।

বিলের ভেতর দিয়ে গেছে একটি সড়ক। এ সড়কে হাঁটতে হাঁটতে পাখি দেখছিলেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা। পত্নীতলার নজিপুরের রিতু আক্তার (২০) এসেছিলেন মা–বাবা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। বলেন, ‘নিজেদের এলাকায় পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম দেখে খুব ভালো লাগছে। পাখিদের এমন কলকাকলির মাঝে বারবার আসতে ইচ্ছা করে।’

দর্শনার্থীদের কেউ সাপাহার উপজেলা সদর থেকে এই বিলে যেতে চাইলে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা। বিলের উত্তর অংশে ভারত সীমান্ত। জবই বিলের জলমহালের আয়তন ৪০৩ হেক্টর। এসব তথ্য জানান আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান।

গত সোমবার আলাপকালে হামিদুর রহমান বলেন, সাত-আট বছর ধরে এ বিলে পরিযায়ী পাখি আসছে। শীতের শুরুতে এখানে পাখিরা আসতে শুরু করে। শুরুতে স্থানীয় লোকজন পাখি শিকার করতেন। কিন্তু প্রশাসন ও স্থানীয় কিছু সচেতন মানুষের তৎপরতায় পাখি শিকার অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। বিল ঘিরে স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের সচেতন তরুণেরা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করেন। কেউ যাতে পাখি শিকার করতে না পারেন, সেদিকে নজর রাখেন কমিটির সদস্যরা।

জবই বিলের পশ্চিম অংশে কলমুডাঙ্গা গ্রাম। বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, পাখিরা জলাশয় ছাড়াও গ্রামের গাছের ডালপালা, বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় ওড়াউড়ি করে। গাছের ফল খেয়ে ফেলে। এরপরও গ্রামের মানুষ পাখিদের কোনো সমস্যা করে না।

বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, পরিযায়ী পাখি হত্যার দায়ে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন