default-image

নিখোঁজের এক মাস পর জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের বামনজি বিল থেকে হাবিবুর রহমান (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে পুলিশ ওই বিলের ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

হাবিবুর ওই ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের জাহান আলীর ছেলে। সে হবদেশ দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সদস্যরা নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুরের সঙ্গে এক গৃহবধূর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই শিক্ষার্থী গৃহবধূর সঙ্গে পালিয়ে যায়। ১০ দিন তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে দুই পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজে বের করলে ওই গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে এবং শিক্ষার্থী তার বাড়িতে চলে যায়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে হাবিবুর নিখোঁজ। পরে তার পরিবারের সদস্যরা ২৭ ফেব্রুয়ারি জামালপুরের নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জিডি করেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে বামনজি বিলে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে হাবিবুরের পরিবারের সদস্যরা লাশটি হাবিবুরের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। লাশটি অর্ধগলিত ও মাথাবিহীন ছিল।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম খান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। হাবিবুরকে হত্যার পর ওই বিলের মধ্যে লাশটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে হয়তো কয়েক দিন আগেই হত্যা করা হয়েছে। লাশটিতে মাথা ছিল না। লাশটি একদম বিকৃত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন