default-image

গাজীপুরের শেখ কামাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারে বিশেষ ব্যবস্থায় ডিম থেকে জন্ম নিয়েছে ৮০টি ঢোঁড়া সাপের বাচ্চা। গতকাল সোমবার সকালে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের লেকে বাচ্চাগুলো অবমুক্ত করা হয়।

শেখ কামাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার ওয়ালটন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ করার সময় বেশ কিছু সাপের ডিম দেখতে পান। কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকনকে জানান। পরে ওই কারখানা থেকে ১৩৮টি সাপের ডিম উদ্ধার করে আনা হয়। সেগুলো ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারে এনে ৯ এপ্রিল থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়। ২১ এপ্রিল প্রথমে চারটি বাচ্চা ফোটে। এভাবে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ৮০টি বাচ্চা ফোটে। বাচ্চা ফোটার পরই সেন্টারের কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, এগুলো ছিল ঢোঁড়া সাপের ডিম।

বিজ্ঞাপন

ঢোঁড়া সাপ হলুদাভ বা সবুজ মেশানো হলুদ আর কালো রঙের হয়। পিঠের দিক দাবার ছকের মতো। চোখ থেকে চোয়ালের পাশ এবং চোখের পেছন থেকে দুটি কালো দাগ দুই পাশে নামা। মাথা ও চোখ বেশ বড়। পেটের দিক খুবই উজ্জ্বল ও সাদা রঙের। পুরুষ ঢোঁড়া লম্বায় ৯৯ সেন্টিমিটার এবং স্ত্রী ঢোঁড়া ১২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
নির্বিষ সাপের মধ্যে ঢোঁড়া সবার চেনাজানা। দেশের সব এলাকায় এই সাপের দেখা মেলে। এরা পচা নর্দমা, ডোবা, খানা, খন্দক, খাল, বিল, হাওর, বাঁওড়ের ধারে বাস করে। মাছ ও ব্যাঙ এদের প্রধান খাবার। এরা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এই সাপ ছোবল দিলেও বিষ না থাকায় কারও কোনো ক্ষতি হয় না। ডাঙা ও পানিতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারদর্শী।

শেখ কামাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারে জন্ম নেওয়া ঢোঁড়া সাপের বাচ্চাগুলো গতকাল সকালে গাজীপুরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের লেকে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট সাদেকুল ইসলাম ও হারপেটোলজিস্ট সোহেল রানা।

সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মোট ১৩৮টি সাপের ডিম পেয়েছিলাম। বিশেষ ব্যবস্থায় ৮০টি ঢোঁড়া সাপের বাচ্চার জন্ম হয়েছে। সেগুলো ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন