বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দ্বিপেনের বাবা সোনারাম কুর্মী চা-শ্রমিক ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি মারা যান। মা লক্ষ্মীমণি কুর্মী চা–বাগানেই কাজ করেন। তাঁরা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বড় দুই ভাই বাগানে ও এক ভাই ঢাকায় একটি বায়িং হাউসের নিরাপত্তাকর্মী। চতুর্থ ভাই মিন্টু কুর্মী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। প্রাইভেট পড়িয়ে এই ভাই লেখাপড়া চালাচ্ছেন। মা আর দুই ভাই দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে বাগানে কাজ করেন।

দ্বিপেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকালে ১৮ হাজার টাকা লেগেছে। তাঁর ভাই মিন্টু পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ওই টাকা ধার করে আনেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সিট পাননি। একটি মেসে থাকেন। মেসের খরচ মাসে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সব বই এখনো কেনা হয়নি। দ্বিপেন বলেন, ‘বাগানে মা আর ভাইয়েরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে দুবেলা খাবারও জোটে না। কষ্ট করে এতটুকু এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তো হলাম। লেখাপড়ায় খরচ লাগে। কীভাবে যে চালিয়ে যাব, সে ভাবনাই ভাবছি।’

দ্বিপেন আরও বলেন, চা-শ্রমিকদের পরিবারে অনেক মেধাবী সন্তান আছেন। কিন্তু অভাব-অনটনের কারণে তাঁরা লেখাপড়ায় বেশি এগোতে পারেন না, ঝরে পড়েন। লেখাপড়া শেষ করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন তাঁর।

রাজকি চা-বাগানের বাসিন্দা স্থানীয় সাগরনাল-ফুলতলা শাহ নিমাত্রা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক সানি পান্ডে বলেন, দ্বিপেন ও মিন্টু খুবই মেধাবী। লেখাপড়ায়ও আগ্রহী। তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। মিন্টুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বাগানের লোকজন চাঁদা তুলে টাকা দিয়েছিলেন। দ্বিপেনকেও এলাকাবাসী সহযোগিতা করতেন। দ্বিপেন সহায়তা পেলে অনেক দূর যেতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন