default-image

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের পাঁচালিয়া গ্রাম। এই গ্রামেরই মা মরা দু্ই ফুটফুটে শিশু ছোঁয়া মনি ও তোয়া মনি। দুজনই ওই গ্রামের শুকুর মৃধার মেয়ে। ছোঁয়া মনির বয়স নয় বছর, তোয়া মনির সাত। দুই বছর আগে মা মারা যাওয়ার পরপরই তাদের বাবা শুকুর মৃধা পুনরায় বিয়ে করেন। সেই সৎমায়ের নাম সূর্যমনি। এরপর থেকে সূর্যমনিই তাদের লালন–পালন করেন। ছোঁয়া আর তোয়ার উচ্ছলতায় পরিবারটিতে সুখের আমেজ ছিল।

কিন্তু শুকুর মৃধার পরিবারে আজ শুক্রবার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে। মা হারিয়েও যে মেয়ে দুটি তাঁর পরিবারে আলো ছড়িয়ে ছিল, সেই মেয়ে দুটি আজ বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। বিষক্রিয়ায় ওই শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তারা বিষক্রিয়ার শিকার হলো কিংবা কে বা কারা তাদের বিষ খাইয়েছে, তা জানা জানা যায়নি। শিশু দুটির মৃত্যুতে পাঁচালিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুতে তাদের বাবা শুকুর মৃধা ও সৎমা সূর্যমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ভেদরগঞ্জ থানার পুলিশ।

আমার দুই ভাতিজিকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
সুমন মৃধা, শিশু দুটির চাচা
বিজ্ঞাপন

স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোঁয়া মনি ৩ নম্বর রামভদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তোয়া ওই বিদ্যালয়েই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে পড়ালেখার চাপ না থাকায় ঘুম থেকে উঠেই চলত তাদের দুষ্টুমি আর খেলাধুলা। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ দুই বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাবা শুকুর মৃধা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা একটার দিকে ছোঁয়া ও তোয়ার মৃত্যু হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিবার ও পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন, শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে বিষক্রিয়ায়।

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত শিশু দুটির চাচা সুমন মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দুই ভাতিজিকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

শিশু দুটির বিষক্রিয়ায় মৃত্যুতে অনেকে তাদের সৎমাকে সন্দেহ করছেন। তবে শিশু দুটির বাবা জানিয়েছেন, সৎমেয়ে হলেও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যমনি শিশু দুটিকে নিজের মেয়ের মতোই লালন–পালন করতেন। তাঁর দাবি, চঞ্চল হওয়ার কারণে হয়তো কোনো বিষাক্ত বস্তুতে তাঁর মেয়েরা মুখ দিয়েছিল।
এ বি এম রশিদুল বারি, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ভেদরগঞ্জ থানা

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম রশিদুল বারি প্রথম আলোকে বলেন, শিশু দুটির বিষক্রিয়ায় মৃত্যুতে অনেকে তাদের সৎমাকে সন্দেহ করছেন। তবে শিশু দুটির বাবা জানিয়েছেন, সৎমেয়ে হলেও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যমনি শিশু দুটিকে নিজের মেয়ের মতোই লালন–পালন করতেন। তাঁর দাবি, চঞ্চল হওয়ার কারণে হয়তো কোনো বিষাক্ত বস্তুতে তাঁর মেয়েরা মুখ দিয়েছিল।

ওসি আরও বলেন, শিশু দুটি কীভাবে বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। তাদের মরদেহ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষক্রিয়ার প্রকৃত কারণ বলা যাবে। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাদের বাবা ও সৎমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0